Apan Desh | আপন দেশ

আপন দেশ-এর মুখোমুখি প্রার্থী

মাঠ থেকে সংসদে যেতে চান রিতা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২২:১০, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মাঠ থেকে সংসদে যেতে চান রিতা খানম

গণসংযোগ করছেন আফরোজা খানম রিতা। ছবি: আপন দেশ

আফরোজা খানম রিতা (রিতা খানম), একাধারে দেশের খ্যাতনামা শিল্পগ্রুপ ‘মুন্নু গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান। শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক ও সংগঠক হিসেবে তিনি সর্বমহলে সুপরিচিত। মানিকগঞ্জের মাঠ-ঘাট, পথে-প্রান্তর কিংবা চায়ের দোকান- জীবনের প্রতিটি পরিসরে তার সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

বিগত স্বৈরাচারী আমলে হামলা-মামলা ও নানা হয়রানির শিকার হয়েও তিনি ন্যায় ও জনগণের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছেন। প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর বড় সন্তান হিসেবে পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের কল্যাণে। আয়েশী জীবন ত্যাগ করে বেছে নিয়েছেন সংগ্রামের পথ রাজনীতি। যার মানে ক্ষমতা নয়,সেবাই বড় দায়িত্ব। 

আফরোজা খানম রিতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, নারী ভোটারদের পাশাপাশি তার প্রতি পুরুষ ভোটারদের সমর্থনও জোরালো। মানিকগঞ্জ শহরের চায়ের দোকানী আলাউদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘উনি (আফরোজার খানম রিতা) নারীদের কথা বলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা আসলে পুরো পরিবারের জন্য। স্ত্রী যদি আয় করতে পারেন, সংসারের চাপ কমে- এটা আমরা পুরুষরাই আগে বুঝি’।

এ আসনের তরুণ ভোটার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রিতার স্কিল ডেভেলপমেন্ট আর উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা শুধু নারীদের জন্য নয়। চাকরির বাজারে আমরা যে সবাই চাপে আছি, সেটা উনি বাস্তবভাবে বোঝেন।’

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল। সাটুরিয়ার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘মা, স্ত্রী বা কন্যা যদি নিরাপদ থাকে, তাহলে পুরুষরাও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে। আফরোজা খানম রিতার চিন্তাগুলো পরিবারকেন্দ্রিক। তার চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারলে সব মহলই উপকৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

স্থানীয় বুদ্দিজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইব্রাহিম খালিল। তার মতে, আফরোজা খানম রিতার রাজনীতি কেবল নারী ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নারীকে কেন্দ্র করে পরিবার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার একটি সমন্বিত কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টাও। এ কারণেই পুরুষ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে দেখছেন পরিবার ও সমাজকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতিনিধি হিসেবে। 

নির্বাচনী আসনের ভোটারদের ভালোবাসায় সিক্ত রিতা খানম (বায়ে) ও আফরোজা খানম রিতা (ডানে)। ছবি: আপন দেশ

আফরোজা খান রিতার সঙ্গে কথা হয় ডেইলি আপন দেশ ডটকম-এর এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন খুবই সাদামাটা ও সহজে।

আপন দেশ: আপনার দীর্ঘ এ সংগ্রামের পেছনে মূল প্রেরণা কী?

আফরোজা খানম রিতা: আমি মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। রাজনীতি যদি মানুষের জীবনে পরিবর্তন না আনে, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই। বাবার কাছ থেকেই শিখেছি- ক্ষমতা নয়, জনসেবাই বড়। বাবাই আমার প্রেরণা।

আপন দেশ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে এলো?

আফরোজা খানম রিতা: দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করে বুঝেছি, অনেক সমস্যার সমাধান নীতিনির্ধারণী পর্যায়েই আটকে আছে। নারী, শ্রমজীবী মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে সংসদে আরও জোরালোভাবে তুলে ধো যাবে। সে কারণেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।

আপন দেশ: আপনার রাজনীতির কেন্দ্রে কেন নারীরা?

আফরোজা খানম রিতা: নারীরা যদি নিরাপদ না হন, স্বাবলম্বী না হন, তাহলে পরিবারও শক্তিশালী হয় না। আমি সবসময় বলি, ‘নারীর ক্ষমতায়ন মানে পুরুষকে বাদ দেয়া নয়; বরং নারী শক্তিশালী হলে পুরো পরিবার, পুরো সমাজই এগোয়’।
তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন পুরুষ ভোটারও। 

আপন দেশ: নারী কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় আপনার মূল পরিকল্পনা কী?

আফরোজা খানম রিতা: কর্মসংস্থান, সুদমুক্ত ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ভাতা- সবকিছু একটি সমন্বিত কাঠামোর ভেতরে আনতে চাই। বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা বাড়ানো যেমন দরকার, তেমনি পরিবার থেকে সহায়তাবঞ্চিত বয়স্ক নারীদের জন্য মানবিক বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

আপন দেশ: ভোটারদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

আফরোজা খানম রিতা: আমি নারী–পুরুষ ভাগ করে রাজনীতি করতে চাই না। আমি পরিবার, সমাজ ও মানুষের কথা বলতে চাই। যদি সুযোগ পাই, পরিকল্পনা দিয়ে কাজ করেই আস্থা ধরে রাখতে চাই। তিনি আরও জানান, মানিকগঞ্জে একটি বিশ্বমানের নার্সিং ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ১ লাখ কেয়ারগিভার তৈরির উদ্যোগ এখান থেকে নেয়া হবে। বিদেশে প্রচুর নার্স ও কেয়ারগিভারের চাহিদা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও জব প্লেসমেন্ট দিয়ে বিদেশে প্রেরণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ধরনের কাজের জন্য আউটসোর্সিং ও প্লেসমেন্ট হাব হবে মানিকগঞ্জ।

আপন দেশ: মানিকগঞ্জ তথা দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে আপনার ভাবনার কথা আপন দেশ-এর মাধ্যমে জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

আফরোজা খানম রিতা: আপন দেশসহ আপনাকেও ধন্যবাদ। 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়