ছবি: আপন দেশ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনে করে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অপরিহার্য। তাই দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারী অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত মূল প্রতিশ্রুতিগুলো হলো—
১. ফ্যামিলি কার্ড চালু: প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০০-২৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে।
২. স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা: নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষায় সমান সুযোগ দিয়ে প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করবে।
৩. সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ: নারীদের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হবে। স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা হবে।
৪. নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ: তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনীতি, প্রশাসন ও নীতি প্রণয়নে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।
৫. প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা: নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রজনন অধিকার শক্তিশালী করা, সাংস্কৃতিক বাধা দূর করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সম্প্রসারণ করা হবে।
৬. লিঙ্গভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা রোধ: নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধে কার্যকর আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিজিটাল হয়রানি, বিদ্বেষ ও বুলিং প্রতিরোধ করা হবে।
৭. ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের শাস্তি: নারী নির্যাতন, যৌতুক, এসিড হামলা, যৌন হয়রানি ও শিশু পাচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন <<>> সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুনঃপ্রতিস্থাপন করবে বিএনপি
৮. ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী সাপোর্ট সেল: নারীদের জন্য বিশেষায়িত কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এখানে চিকিৎসক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা ভুক্তভোগী নারীদের সমন্বিত সহায়তা দেবেন।
৯. নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা: ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে নারীদের বিনা সুদে ঋণ, কর ছাড় এবং প্রশিক্ষণ ও মার্কেটিং সহায়তা দেয়া হবে।
১০. আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে কর্মসংস্থান: শিক্ষার সুযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করা হবে।
১১. ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার: কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হবে।
১২. স্বাস্থ্য ও হাইজিন সুবিধা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানে ভেন্ডিং মেশিনে সেনেটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করা হবে।
বিএনপি ইশতেহার বলেছে, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন অসম্পূর্ণ। নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সমাজে তাদের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতা দৃঢ় হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































