Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৪৩, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। এতে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, ক্রীড়া, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষক কার্ড প্রবর্তন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী দেয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

১. প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সহায়তার পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

১. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এর আওতায় ভর্তুকি দেয়া হবে। সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা মিলবে। কৃষি বীমা চালু করা হবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। এ সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে। রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো হবে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল চালু করা হবে।

আরও পড়ুন <<>> বিএনপির ইশতেহার: মুক্তিযুদ্ধ-জুলাইয়ে শহীদদের কল্যাণের অঙ্গীকার 

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কারিগরি ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তরুণদের যুক্ত করা হবে। মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়া হবে। বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে সংযোগ বাড়ানো হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী চালু করা হবে। প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন করা হবে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণের কথাও ইশতেহারে রয়েছে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়। এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতার বদলে জনগণের অধিকারকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার কথা বলা হয়েছে। লুটপাট নয়, উৎপাদনের রাজনীতির অঙ্গীকার করা হয়েছে। ভয় নয়, অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সেখানে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে বলে জানানো হয়েছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে—সবার আগে বাংলাদেশ।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়