Apan Desh | আপন দেশ

‘সম্ভ্রম রক্ষায়’ প্রার্থী মেঘনা আলমের প্রচারণা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:২৫, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

‘সম্ভ্রম রক্ষায়’ প্রার্থী মেঘনা আলমের প্রচারণা বন্ধ

মেঘনা আলমের ফাইল ছবি

ঢাকা–৮ আসনের একমাত্র নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মেঘনা আলম ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি ও ইভটিজিংয়ের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাময়িক বিরতি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নারী হিসেবে তাকে অপমান ও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

সরকার বারবার নির্বাচনী প্রার্থীদের গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা প্রদানের ঘোষণা দিলেও, ঢাকা–৮ এর একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও মেঘনা আলম এখনো কোনো ধরনের সরকারি নিরাপত্তা পাননি বলে জানান তিনি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- সরকারের এ ঘোষণা কি বাস্তব প্রতিশ্রুতি, নাকি কেবল কথার ফুলঝুরি?

গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মেঘনা আলমের অভিযোগ, তার নারী কর্মীদের গায়ে লেজার লাইট ফেলে অপমান করা হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অথচ গানম্যান বরাদ্দের বিষয়ে এক দফতর অন্য দফতরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায় দিচ্ছে ডিএমপিকে, ডিএমপি বলছে নির্বাচন কমিশনের কথা, আবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানাচ্ছেন- স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিষয়টি দেখবে। সব দফতরে লিখিত আবেদন জমা দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এদিকে বিএনপির ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ করে প্রকাশ্যে যৌন হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন মেঘনা আলম। দায়িত্বশীল নেতাদের সরাসরি ট্যাগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে তিনি জানান।

একইসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর অশ্লীল ও মানহানিকর ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। মেঘনা আলমের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নারীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর পরোক্ষ সমর্থনের শামিল।

এ পরিস্থিতিকে তিনি রাজনৈতিক সন্ত্রাস, নারীবিদ্বেষী আচরণ ও আইনবহির্ভূত সংস্কৃতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মেঘনা আলম বলেন, চাইলে তিনি ‘মিস বাংলাদেশ’ হিসেবে সৌন্দর্য জগতেই থেকে আরও খ্যাতি ও আরামদায়ক জীবন বেছে নিতে পারতেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে নিরাপদ ও স্বচ্ছল জীবনযাপন করাও তার জন্য কঠিন ছিল না। কিন্তু একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সার্টিফায়েড রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

তিনি জানান, নারীদের অনলাইন ও অফলাইন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সাইবার নিরাপত্তা সেল ও আইনি সহায়তা সেল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে শত শত মিথ্যা মামলায় জর্জরিত নিরীহ মানুষকে মুক্ত করার পাশাপাশি হাদি হত্যা, ফেলানী হত্যাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার শিকার সকল মানুষের বিচারের দাবি সংসদে তুলে ধরবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

তবে তার অভিযোগ, নিরাপদ ও নারীবান্ধব ঢাকা–৮ গঠনের স্বপ্নকে অঙ্কুরেই দমিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো গানম্যান বরাদ্দ না দিয়ে তাকে কার্যত একটি হিংস্র ও বৈষম্যমূলক পরিবেশের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ আচরণ শুধু একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়, বরং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিরুদ্ধেই একটি ভয়াবহ বার্তা বহন করে।

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু মেঘনা আলমের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই হুমকিস্বরূপ নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বভৌমত্বকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়