ছবি : সংগৃহীত
সম্ভবত ২০১১ সালের মে মাস। ম্যাডাম খালেদা জিয়া তখন সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী। ওই সময়ে তিনি গিয়েছিলেন বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে। ছোট্ট অনটুরাজ টিম। আমিও তার সফরসঙ্গী হবার দুর্লভ সুযোগ পেয়েছিলাম। এর সঙ্গে যুক্ত আলোকচিত্রটি ওই সফরের সময়ের।
ম্যাডামের সম্মানে দেয়া এক নৈশ ভোজসভায় শামিল হয়েছিলেন তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ছোটভাই টনি নামে পরিচিত অ্যান্থনি ডিন রডহ্যাম ও তার স্ত্রী। ফটোতে ম্যাডামের দুই পাশে টনি দম্পতি। পেছনে আমিও দাঁড়ানো ছিলাম। যা-হোক ওই সফরকালের একটা ঘটনার কথা বলি। রোগে-শোকে-বয়সে আমার স্মৃতি খানিকটা ঝাপসা হয়ে এলেও ওই ঘটনাটি মনে বেশ দাগ কেটে আছে।
বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমরা যাচ্ছিলাম হোয়াইট হাউসে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারের সঙ্গে তার ওয়েস্ট উইংয়ের অফিসে ম্যাডামের বৈঠক। যিনি এ বৈঠকের আয়োজক তিনি মার্কিন নাগরিক ও সে দেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। ম্যাডামের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের ছোট ভাই তিনি। তার নাম এম. ওসমান সিদ্দিক। অ্যাডভাইজার তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি আমাদের গাড়ি বহরে সবার সামনে।
প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার পর আমাদের গাড়ি বহর দাঁড় করিয়ে ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সিকিউরিটি চেকিং শেষে কাগজপত্র পরখ করতে এগিয়ে এলেন পুলিশের কর্তব্যরত এক কৃষ্ণাঙ্গ লেডি সার্জেন্ট। কিন্তু আমাদের যিনি গাইড তাকেই আটকে দিলেন সে সার্জেন্ট। আমাদের সকলের প্রবেশাধিকার মিললেও রাষ্ট্রদূত সাহেবের বেলা ঘটলো বিপত্তি। তার নামে হোয়াইট হাউসের যে এন্ট্রি পাস, তাতে জন্মতারিখ ভুল। অর্থাৎ নিজের জন্মতারিখ লিখতে তিনি সামান্য ভুল করে ফেলেছিলেন।
আমেরিকান রীতিতে প্রথমে বছর, তারপর মাস এবং শেষে দিন লেখা হয়। রাষ্ট্রদূত সাহেবের পাস-এ প্রথমে বছর থাকলেও ভুলে দিন আগে মাস পরে লেখা হয়েছিল। যেমন ২৪ মার্চ জন্মদিন হয়ে থাকলে ৩-২৪ লেখার কথা। ভুলে লেখা হয়েছিল ২৪-৩। ব্যস, তার প্রবেশাধিকার আটকে গেল।
তিনি গাড়িতে বসেই সেলফোনে ফোন করলেন ভেতরে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারকে। তিনিও বিব্রত। বললেন, সার্জেন্ট তো আমার কথা শুনবেনা, তবুও ওকে ফোনটা দাও, বলে দেখি। সার্জেন্টের দিকে ফোন বাড়িয়ে রাষ্ট্রদূত বললেন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার কথা বলবেন। সার্জেন্ট সোজাসাপ্টা অস্বীকার করলেন।
তার সাফ কথা: ‘হু ইজ হি? আই ডোন্ট নো হিম। হোয়াই শ্যুড আই টক টু হিম?’ একমাত্র তার ঊর্ধ্বতন লেফটেন্যান্ট ফোন করলেই উনি তার ফোন ধরতে পারেন। নতুবা ডিউটি করার সময় অন্য কারো ফোন ধরবেন না।
কী আর করা! অ্যাডভাইজার সাহেব ফোনে অসংখ্যবার ‘স্যরি’ বললেন তার বন্ধুকে। আর এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে রাতে তাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানালেন তার নিজের বাসায়। আমাদেরকেও বাধ্য হয়ে তাকে ছাড়াই হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ে ঢুকতে হলো। বুঝলাম, এখানে ব্যক্তির বা ক্ষমতার নয়, আইনের প্রাধান্য সবাইকেই মেনে চলতে হয়।
লেখক: সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































