ছবি: আপন দেশ
উনিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হারের রেকর্ডের পরও চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলকে কেন ‘ভালো’ বলেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, “আমি বলেছি এ রেজাল্ট ভালো হয়েছে বিকজ আমাদের স্কুলগুলোতে শিক্ষক নেই। আমাদের দেশে… করোনার পরে পড়ালেখা ডিস্টার্বড হয়েছে। ক্লাসরুম এডুকেশনগুলো ঠিকমত হয়নি। সব মিলিয়ে তারপরে যে রেজাল্ট করেছে টু মি, ইট ইস গুড রেজাল্ট।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল-বার্ক মিলনায়তনে ‘এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ-ইআরআই’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনি গিয়ে দেখুন সরকারি স্কুলগুলোতে টিচার নেই। আপনি গিয়ে দেখুন প্রাইমারি স্কুলে, ৩৮ হাজার স্কুলে গভার্নমেন্টের হেডমাস্টার নেই। আপনি গিয়ে দেখুন কলেজগুলোতে কোনো টিচার নেই। ১২ হাজার টিচার সরকারি স্কুলগুলোতে কম রয়েছে। ৫০ হাজার টিচার কম রয়েছে প্রাইমারি স্কুলে; ৩৮ হাজার হেডমাস্টার নেই। ৭৭ হাজার টিচারের শর্টেজ রয়েছে আমার এমপিওভুক্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে।
এমন সংকট বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসে সৃষ্টি হয়নি মন্তব্য করে এহছানুল হক মিলন এর সূচনা কবে হয়েছিল তা খুঁজে বের করতে সংবাদকর্মীদের আহ্বান জানান। ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’শীর্ষক ওই পাবলিক লেকচারে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মন্ত্রী।
এর আগের দিন সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়া সোয়া ১৮ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ফলের বিস্তারিত তুলে ধরতে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ফল ভালো হয়েছে’বলে মন্তব্য করেছিলেন মন্ত্রী। ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হারকে ‘খারপ ফল’ মন্তব্য করে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আপনি খারাপ বলছেন কেন? ফলতো ভালো হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
মন্ত্রী বলছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে’ বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ‘অপপ্রচার’। একটি মিটিংয়ের রেজুলেশনের আলোচনার জায়গাটুকু কেটে, কোনো গুপ্ত এক লোক মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনায় যতটুকু হয়েছে, অতটুকু কেটে দিয়েছে। কিন্তু তার নিচে যে রয়েছে মাননীয় মন্ত্রী সেটাকে দেখবেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন, তারপরে সেইটার প্রজ্ঞাপন জারি হবে, সে জায়গাটি ওই চিঠির মধ্যে রয়েছে, সে জায়গাটুকু না দিয়ে পত্রিকায় ছাপিয়ে দিল!
তিনি বলেন, চিলে কান নিয়ে গিয়েছে শুনেছে, চিলের পিছনে দৌড়াচ্ছে; একবারও কানে হাত দিয়ে দেখে না আমার কানটা রয়েছে কিনা। গতকাল রাত্রে আবার শুনলাম যে মিছিল হচ্ছে। কোথায়? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হয়েছে। মিছিল হচ্ছে কিসের জন্য? যে এমপিও শিক্ষকদেরকে ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে দিয়ে দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আই ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড! একটি বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে হলে আলোচনা হবে, আলোচনার টেবিল থেকে রেজুলেশন হয়ে আমার কাছে আসবে; সে রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত? এটা কি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি দলীয় সিদ্ধান্ত? একবারও ভাবে না।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এমন ‘উসকানিতে ব্যস্ত হতে দেখননি’ বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপেং আলোচনায় অংশ নেন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































