Apan Desh | আপন দেশ

গবেষণা-দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৮:৫২, ৬ আগস্ট ২০২৬

গবেষণা-দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার নতুন উদ্যোগ

ছবি: আপন দেশ

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়। 

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। 

আরও পড়ুন<<>>গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে দুই-তিনদিনের মধ্যে: মন্ত্রী

জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বলেন, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত দিক এবং নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।

হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল অ্যাডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাইকমিশনার আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে। এ সফর দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রফতানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি ও আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনদেশ/মিম/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement