ছবি: আপন দেশ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। দুপুরের দিকে এটি শেষ হয়।
বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। তবে বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এ স্তরের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে কমিটির মধ্যে মতৈক্য হয়েছে।
অন্যদিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশও রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হবে। সর্বনিম্ন গ্রেড (২০তম) মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ গ্রেড (প্রথম) মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। ২০ হাজার টাকার কম পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা পেনশনের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশন সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয় কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসাব ধরে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন <<>> বসুন্ধরার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের লাগাম
তবে সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে বা তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে পৃথক দুটি বৈঠকে আগামী বাজেট ও পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনীতির বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































