Apan Desh | আপন দেশ

বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই

ছবি: আপন দেশ

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে মৌলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্মমুখী শিক্ষা প্রদানের দাবি জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। এসময় বক্তরা বলেন, বেকারত্ব দূর করতে শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মমুখী হওয়ার বিকল্প নেই।

শুক্রবার (২৪ শুক্রবার) সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের আয়োজনে রাজধানীর ঊষা চত্বরে এক নাগরিক কর্মশালায় তারা এ দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন বেকার মানুষের সংখ্যা রয়েছে ২৬ লাখ ৬০ হাজার। দেশে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এদিকে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ। এর মধ্যে বেশির ভাগই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি।

শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তরা বলেন, যে হারে প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষিত লোক বাড়ছে সে হারে কর্মসংস্থান না থাকায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মমুখী না হওয়ায় উচ্চ শিক্ষা শেষ করে সবাই চাকুরীর পেছনে ঘুরে। নিজে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করে না। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করে গড়তে পারলে উচ্চ শিক্ষা শেষে সবাই চাকুরীর পিছনে না ঘুরে নিজেই কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে প্রয়াস পাবে। তাই বেকারত্ব দূর করতে শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মমুখী হওয়ার বিকল্প নেই।

বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্ব এখন আর আগের মতো নেই। প্রতিনিয়ত অস্থিরতা, সংঘাত, দুর্নীতি আর নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে। এর মাঝেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। অথচ আমরা জানি, ভালো কোনো কিছু দ্রুত শিখি না, কিন্তু পৃথিবীর কোথায় কী ভুল হচ্ছে, তা খুব দ্রুত জানি। শেখার ঘাটতি আর নৈতিক শিক্ষার অভাব আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনিশ্চয়তা, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও শৃঙ্খলার সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। 

আরও পড়ুন<<>>জঙ্গি হামলা নিয়ে যে তথ্য জানাল সিটিটিসি

সামরিক প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়ে বক্তরা বলেন, চীন, রাশিয়া, কিউবা, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়েসহ বেশ কিছু দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা যুবকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ আহমেদ বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ছাত্র-যুবকদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ বিএনপি সরকারকে পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানায়।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযাযের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর (অব.), প্রধানবক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান (অব.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর হারুনুর রশিদ (অব.), অ্যাডভোকেট জাকির সিরাজী, আলহাজ্ব শরিফ শাকি, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আজম খান, এম এ সোহেল আহমেদ, এস এম সায়েদুল ইসলাম, সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহ আলম, কবি ডা.জান্নাতুল ফেরদৌসী, জহিরুল কবির প্রমূখ। সঞ্চালনায় ছিলেন মু.সাহিদুল ইসলাম।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়