Apan Desh | আপন দেশ

ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে: ডা. শফিকুর রহমান

ছবি: আপন দেশ

দেশের ইতিহাসে বারবার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন,  জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো— দেশে যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে কোনও রাজতন্ত্র থাকে না, সেখানে বংশপরম্পরায় শাসনেরও ব্যবস্থা থাকে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয় এবং দেশ পরিচালনা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বারবার জনগণের ভোটের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

দেশের প্রথম নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে যারা সুযোগ পেয়েছিলেন, তারাই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। বাহাত্তরের সংবিধানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়ে যাওয়ায় জনগণের ভোটের আর কোনো মূল্যায়ন ছিল না।

শফিকুর রহমান বলেন, সর্বশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিল, তারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ডামি ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে জাতির ওপর প্রচণ্ড দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, শিশুরা এতিম হয়েছে। অনেক লোককে গুম করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩৫ জন মানুষ এখনও আপনজনের কাছে ফিরে আসেননি। এ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন দুই হাজার ৬৬২ জন মানুষ, যারা ন্যূনতম বিচার পাওয়ার সুযোগ পাননি। এছাড়া রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দলীয় কর্তৃত্ব কায়েম করা হয়েছিল।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, এসব অপকর্মের পরিণতি হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণ ছাত্রসমাজের দাবানল জ্বলে ওঠে, যা ৫ আগস্ট পরিণতি লাভ করে। এ জন্যই দেশের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ আন্দোলনে শুধু নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীর নয়, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা, মাঝি, মজুর—সবাই সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দুধের শিশু নিয়ে মা রাস্তায় নেমেছিলেন এবং চার বছরের শিশুও এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ উত্থাপনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, এত রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো ওই ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। একটি ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে এমন একটি দেশ কায়েম হবে, যেখানে নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবে। এ আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছেন।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

শীর্ষ সংবাদ:

বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে: মন্ত্রী ১৪ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান পেট্রোল পাম্প মালিকরা পেট্রোল-ডিজেল কী পরিমাণ মজুত আছে, জানাল জ্বালানি বিভাগ তেলভর্তি জাহাজে হামলা, সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপির স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা তেহরানে ফের অতর্কিত হামলা ইসরায়েলের নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক