ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (০২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতার খবর বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির কেবল আংশিক প্রতিফলন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। অনেক ঘটনা আইনের আওতায় আসে না কিংবা সামাজিক ভয়ের কারণে চাপা পড়ে থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা এবং ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়ন, ২ জন উত্ত্যক্তকরণ এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন নারী। এসিডদগ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন একজন করে।
আরও পড়ুন <<>> সংসদের হুইপ-চিফ হুইপ হলেন যারা
যৌতুকজনিত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যার মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৩ জন।
অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ২ জন এবং ২ জন কন্যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার হয়েছেন ২০ জন কন্যাসহ মোট ৪০ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৫ জন। এছাড়া ২ জনের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের চেষ্টা এবং ১ জন কন্যাসহ আরও ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে ভেঙে যাওয়া পরিবার, থেমে যাওয়া স্বপ্ন এবং নিরাপত্তাহীন সমাজের বাস্তব চিত্র। নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































