তারেক রহমানের ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা ফলের তথ্য বলছে, এরই মধ্যে দলটির অন্তত ২১৩ জন প্রার্থী বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন। তবে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত বিভিন্ন আসনের তথ্য বলছে, দলটির আসন সংখ্যা আরও ৪/৬টি বাড়তে পারে।
বিধি অনুযায়ী কোনো দল সংসদের মোট আসনের অর্ধেকের বেশি তথা ন্যূনতম ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করতে পারে। ভোটের ফলাফলের তথ্য বলছে, বিএনপি ন্যূনতম এ সংখ্যা দুই শতাধিক আসন পেয়েছে। ফলে বিএনপির সরকার গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্তত ৭০ প্রার্থীর বিজয় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়। আরও ২/১টি আসনে এ জোটের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। সার্বিক তথ্য বলছে, এ জোট শেষ পর্যন্ত ৭২টির মতো আসন পেতে পারে।
আরও দেখুন<<>> ভোটের ফলাফল লাইভ
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্তত ৬টির নিশ্চিত খবর মিলেছে। তারা হলেন- নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, হান্নান মাসউদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আব্দুল্লাহ আল আমিন। দল গঠনের এক বছরের মাথায় প্রথমবার নির্বাচন করেই অন্তত ছয়জন জনপ্রতিনিধি নিয়ে সংসদে প্রবেশ করবে দলটি।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে থাকা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিও এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন। একই জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের আলোচিত সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে ও বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রার্থীও প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছেন এবারের নির্বাচনে। এ দলের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-১ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. অলি উল্লাহ।
অন্যান্য দলের মধ্যে খেলাফত মজলিসের (ঘড়ি প্রতীক) মোহাম্মদ আবুল হাসান জয় পেয়েছেন সিলেট-৫ আসনে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) দুই প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ময়মনসিংহ-২ আসনে ও সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাদারীপুর-১ আসনে জয় পেয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>> আনন্দ মিছিল করতে বিএনপির মানা
এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫), এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫), মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩), সালমান ওমর রুবেল (ময়মনসিংহ-১), মো. আবদুল হান্নান (চাঁদপুর-৪)। এ ছাড়া কুমিল্লা-৭ আসনে জয় পেয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শুরু হয় এ নির্বাচনের ভোট গণনা। রাত ৮টার দিক থেকে আসতে শুরু করে বিভিন্ন আসনের ফল। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা নাগাদ ২৮৮ আসনের ফল ঘোষণা শেষ হয়েছে। মামলা জটিলতায় চট্টগ্রামের ২টি ও শেরপুরের একটি আসনের ফলাফল আপাতত ঘোষণা করা হচ্ছে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে মোট ৫১টি দল অংশ নিয়েছে। এসব দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেবলে নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































