Apan Desh | আপন দেশ

রোহিঙ্গা-স্থানীদের ইইউর ২০ লাখ ইউরো অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রোহিঙ্গা-স্থানীদের ইইউর ২০ লাখ ইউরো অনুদান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) অতিরিক্ত ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২৯ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা। ইইউর নাগরিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুদানের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এ অর্থ যুক্ত হওয়ায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির জন্য ইইউর মোট সহায়তা বেড়ে দাঁড়াল ১ কোটি ৫৩ লাখ ইউরো। এ অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

বাংলাদেশে ইইউর মানবিক সহায়তার প্রধান ডেভিড জাপ্পা বলেন, ২০২৫ সাল বিশ্বব্যাপী মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য কঠিন সময় পার করছে। তবুও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেনি ইইউ। সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সংহতি ও সহায়তা ইইউর মৌলিক নীতির অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডব্লিউএফপি বর্তমানে ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। এ সহায়তার আওতায় রয়েছে প্রায় ১২ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নতুন করে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গাও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা পায়। যা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রধান খাদ্য ও তাজা খাবার কিনতে পারে।

আরও পড়ুন <<>> বাণিজ্য উপদেষ্টার শেষ অনুরোধ

খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে ডব্লিউএফপি। একই সঙ্গে ৪-১৪ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য স্কুল মিল কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় উভয় সম্প্রদায়ের জন্য জীবিকা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লসন পার্চমেন্ট বলেন, ইইউর সময়োপযোগী সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের জন্য সংস্থাটি কৃতজ্ঞ। এ ধরনের সহায়তাই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।

এদিকে নবম বছরে পা দেয়া রোহিঙ্গা সংকট এখনও তীব্র অর্থসংকটে রয়েছে। ২০২৬ সালে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি চালু রাখতে ডব্লিউএফপির প্রয়োজন প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। নতুন তহবিল না এলে আগামী এপ্রিলের শুরু থেকেই এসব কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপর দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়