ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, যা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রচারিত সাড়ে ১৪ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংস্কার প্রক্রিয়া, নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মাহফুজ আলম।
নির্বাচনে অংশ না নেয়া এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ না দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার জোট কোনো সুস্পষ্ট বোঝাপড়া ছাড়াই গঠিত হয়েছে। তার মতে, এ মুহূর্তে কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার সময় তার জন্য উপযুক্ত নয়।
মাহফুজ আলম জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে। আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হওয়ার পেছনে এ বাস্তবতাই মূল কারণ বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ার চেষ্টা ছিল। তবে এনসিপি যখন পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা পুরোনো কাঠামোর অংশ। এ ধরনের জোট আদর্শিক ও নীতিগতভাবে বহু প্রশ্ন তৈরি করে, যার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুন <<>> জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের ভাইস-চেয়ার নির্বাচিত বাংলাদেশ
তার মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন ও আদর্শিক অবস্থানের দিক থেকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের মেলবন্ধন সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্ক করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ক্ষমতায় বিএনপি বা জামায়াত—যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরের ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকবে না। কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মব নিয়ে মাহফুজ বলেন, ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা না হলে দেশে মব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন সাবেক এ তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে তাদের অতীত ভূমিকার জন্য আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহফুজ আলম বলেন, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সমাধান না হলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে গণপিটুনি ও মব ভায়োলেন্স চলতেই থাকবে। তার মতে, একটি প্রকৃত সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তরুণ সমাজ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































