ছবি: আপন দেশ
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১৪তম দিন এবং দ্বিতীয় শুক্রবারে মেলা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শুরুর কয়েক দিন তুলনামূলকভাবে ক্রেতা কম থাকলেও ছুটির দিনে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। দুপুরের পর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে এবং বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ পুরোপুরি দর্শনার্থীতে ভরে ওঠে। বেচাকেনা বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারাও।
আরও পড়ুন<<>>ওসমান হাদীর ভাই ওমরকে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ
প্রতিবারের মতো এবারও প্রসাধনী, পোশাক ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্রের স্টলগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলখানার কয়েদিদের তৈরি কারা পণ্যের স্টলগুলোতেও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। খাবারের স্টলগুলোতেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য।
শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় রয়েছে প্যাডেল বোট, স্লিপার, হেলিকপ্টার রাইড, নাগরদোলা, নৌকা ও ট্রেনসহ নানা ধরনের রাইড। খাবারের আয়োজনেও রয়েছে বৈচিত্র্য—বিরিয়ানি, মিষ্টি, ঝটপট খাবার, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন স্টল। এ বছর মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে একটি তুর্কি রেস্টুরেন্ট, যেখানে নতুন স্বাদের খাবার নিতে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমীরা।
মেলায় বাইসাইকেল, স্যুট, সাফারি, থ্রি-পিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালির সামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক পণ্য, মোটরসাইকেল ও স্কুটিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ছুটির দিনে দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী ও পোশাক কিনতে অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন।
সোনারগাঁওয়ের খিদিরপুর থেকে আসা গৃহবধূ সাফা বেগম বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় এসেছি। ভিড় অনেক, তবে কিছু কেনাকাটা করার ইচ্ছা আছে।
গাজীপুর থেকে আসা সামান্তা বেগম বলেন, ভিড় থাকলেও জায়গা প্রশস্ত ও পরিবেশ ভালো থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না।
মীরপুর থেকে আসা দর্শনার্থী সুইটি আক্তার বলেন, ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। টুকটাক কেনাকাটাও করেছি। পণ্যের বৈচিত্র্য বেশ ভালো।
গৃহস্থালী ও তৈজসপত্রের স্টলগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম স্টলের ক্রেতা সাহিবা মাহবুবা বলেন, প্রতি বছরই মেলা থেকে কিছু না কিছু কিনি। এখানে পণ্যের সমাহার ভালো, পছন্দমতো জিনিস পাওয়া যায়।
কিছু স্টলে বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ঢাকাই জামদানি হাউজের কর্ণধার মো. নাদিম মাহমুদ বলেন, মেলা উপলক্ষে ২০ শতাংশ ছাড়ে শাড়ি বিক্রি করছি। প্রথম ধাপে আনা পাঁচ হাজার শাড়ির মধ্যে দুই হাজার ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে।
ক্লাসিক্যাল হোম টেক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. জুবায়ের আলম জানান, ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতা সমাগম ও বেচাকেনা দুটোই ভালো হচ্ছে।
এবারের মেলায় মোট ৩২৪টি স্টল রয়েছে। ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে। ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনা মূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।
বাণিজ্য মেলার টিকিট ইজারাদারি প্রতিষ্ঠান ডি জি ইনফোটেকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মুনকাদির জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৮৫ হাজার দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, দিন শেষে দর্শক-ক্রেতার সংখ্যা এক লাখ ছাড়াবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































