ফাইল ছবি
তিনটি শর্তে আমরা গাজায় ফোর্স পাঠবো তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও চুড়ান্ত হয়নি। এখনও আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে। কারণ এখনও কোনও কিছুই ঠিক হয় নাই, কারা থাকবে কারা থাকবে না। পরিবেশ সৃষ্টি না হলে ফোর্স পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মূল কথা হলো তিনটি শর্তের কথা বলেছে যে কোনও অবস্থাতেই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা যাবো না। প্রথমত, আমরা ওখানে লড়াই করতে যাবো না। দ্বিতীয়ত, ওখানে এমন কোনও কর্তৃপক্ষ থাকবে যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলাই সম্ভব না, সে ক্ষেত্রে তো আমরা যাবো না। কাজে আমাদের শর্তগুলো যেগুলো, সেগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু এরপর আমরা চিন্তাভাবনা করবো। কিন্তু আসলে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
আরও পড়ুন<<>>নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা
যেহেতু এখনও বাহিনী তৈরির কাজ শুরু হয়নি, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এ অবস্থায় এটি নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিসঙ্গত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে, সরকার কিন্তু থাকছে। মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সে স্থান নেবেন এবং দেশের এনগেজমেন্ট দেশের স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করবো না বা করছি না যেটা এ সরকার সরে গেলেই একেবারে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপালটে দিতে হবে। কারণ যে ট্রানজিশন হবে, আমরা খুবই আশাবাদী সেটা একটা স্মুথ ট্রানজিশন হবে। ২০২৪-এর আগস্টে যেটা হয়নি, সেটা তো একটা ভায়োলেন্ট পরিবর্তন ছিল। এ ধরনের পরিবর্তন যখন আসে তখন আপনারা প্রত্যাশা করবেন যে আসলেই পলিসির মধ্যে কার্যকলাপের মধ্যে অনেক বেশি পরিবর্তন আসবে। যে পরিবর্তনটা এসেছে আপনারা খেয়াল করেছেন অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা মনে করি, আমরা যে কাজগুলো করছি, সেটা আমরা গুছিয়ে রাখছি– যতটুকু সম্ভব, অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ডেপ্লয়মেন্টের সিদ্ধান্ত সেটা পরবর্তী সরকারই নেবে, আমরা মনে করি না যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে, কারণ এটা শুধু আমাদের বিষয় না, সব বিশ্বের একটা বড় সংখ্যক দেশের ইনভলভমেন্ট আছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও জোটে যুক্ত হওয়ার কথা চলছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত কিন্তু কোনও জোটে ঢোকে নাই অর্থাৎ দেড় বছরের মধ্যে আমি বলতে পারি যে আমরা কোনও জোটে ঢুকি নাই। বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে আলাপ-আলোচনা কিন্তু চলতে থাকে, সার্ক ছিল, সার্কের পরেও কিন্তু এসএজি ছিল। সার্কের মধ্যে চারটা দেশকে নিয়ে একটা জোট ছিল, সাংহাই কো-অপারেশন আছে, সেটাতে পাকিস্তান আছে, ইন্ডিয়াও আছে। এভাবে বিভিন্ন গ্রুপ দাঁড়ায় বিভিন্ন সময়, আমরা যদি দেখি আমাদের স্বার্থ আছে এরকম কোনও গ্রুপ সৃষ্টিতে এবং যদি দেখতে পাই যে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে সদস্য হলে, তাহলে আমরা অবশ্যই যাবো, না হলে তো যাওয়ার প্রশ্ন আসে না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































