ফাইল ছবি, আপন দেশ
প্রযুক্তির কল্যাণে ইবাদত ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেয়া এখন আরও সহজ ও সাবলীল হয়েছে। প্রযুক্তির এ সেবা দানে যুক্ত হয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ডিজিটাল দান বক্স ও হজ-উমরা সেভিংসের মাধ্যমে ঘরে বসেই নিরাপদ ও সরাসরি পবিত্র কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ইসলামী ব্যাংকের সেবাগ্রহীতারা।
হজ ও উমরাহ সেভিংস:
হজ ও উমরাহ পালনে আগ্রহী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে রয়েছে মুদারাবা হজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও মুদারাবা উমরাহ সেভিংস স্কিম। এ দুটি স্কিম গ্রাহকদের ধাপে ধাপে অর্থ সঞ্চয় করতে সহায়তা করে এবং আর্থিক ও মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে পবিত্র হজ ও উমরাহ পালন সহজতর করে।
এ সঞ্চয় হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহকগণ হজ বা উমরাহ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়-যেমন, ভিসা, বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ ও অগ্রিম প্রস্তুতির মাধ্যমে নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন।
হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তি তার সামর্থ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এক থেকে পঁচিশ বছর মেয়াদে মুদারাবা হজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। মুদারাবা পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ মুনাফা প্রদান করা হয় এ অ্যাকাউন্টে। গ্রাহক তার পরিকল্পনা ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী হিসাবের মেয়াদের ভিত্তিতে কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত করতে পারেন বিধায় হজের জন্য টাকা জমানো অধিকতর সহজ হয়। গ্রাহক হিসাবের পূর্বনির্ধারিত মেয়াদের পূর্বেই হজ সম্পাদনে আগ্রহী হন তাহলে তিনি তার মুদারাবা হজ সঞ্চয় হিসাবে জমাকৃত অর্থের সঙ্গে ঐ বছর নির্ধারিত হজের টাকার অবশিষ্টাংশ জমা করে হজ পালন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন<<>>ছয় দফা বেড়ে অবশেষে কমলো স্বর্ণের দাম
একইভাবে উমরাহ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তি তার সামর্থ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এক থেকে ১২ বছর মেয়াদে মাসিক কিস্তিতে উমরাহর টাকা জমা করতে পারেন। ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তি নিজ নামে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার নামে পিতামাতা অথবা আইনগত অভিভাবক এ হিসাব খুলতে পারবেন। মুদারাবা পদ্ধতিতে মুনাফা প্রদান করা হয় এ অ্যাকাউন্টে। পবিত্র হজ ও উমরাহ পালনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পরিকল্পনা ও সর্বোচ্চ মুনাফার সুবিধা দেয় এ স্কিমগুলো।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ যেকোনো শাখা, উপ-শাখা, এজেন্ট আউটলেট এমনকি সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমেও ঘরে বসে এ হিসাবগুলো খোলা সম্ভব।
ডিজিটাল দান বক্স:
ইসলামী ব্যাংকের ডিজিটাল দান বক্স আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মানুষের দান করার প্রক্রিয়াকে করেছে অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছ। এ বিশেষ সেবার কল্যাণে গ্রাহক এখন সঙ্গে নগদ টাকা না থাকলেও সেলফিনসহ যেকোনো ব্যাংকিং অ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই সাদাকাহ বা অনুদান প্রদান করতে পারছেন। সরাসরি হাতে টাকা দেয়ার ঝামেলামুক্ত এ পদ্ধতিতে যেমন পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় থাকে, তেমনি দানের প্রতিটি লেনদেনও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আপনার এলাকার মসজিদ, ইয়াতীমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেয়ার এ ডিজিটাল সুবিধাটি সামাজিক উন্নয়নে গতি আনার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি দারুণ উদ্ভাবন হিসেবে স্বীকৃত। মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এ সেবাটি মানবিক কাজে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আরও বেশি উৎসাহিত করছে।
সেলফিন, আই-ব্যাংকিং বা শাখা/এজেন্টে স্পেশাল ইনস্ট্রাকশন দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব অ্যাকাউন্টের মাসিক কিস্তি টাকা ও অনুদানের টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর আমানতদারিতার সংমিশ্রণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণের এক বিশ্বস্ত ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। ইহকালীন স্বাচ্ছন্দ্য ও পরকালীন মুক্তির এ অনন্য মেলবন্ধনই যুগ যুগ ধরে গ্রাহকদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে ইসলামী ব্যাংকের অবস্থানকে করেছে সুদৃঢ়।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































