Apan Desh | আপন দেশ

আজ সংবাদপত্রের কালো দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১১:০২, ১৬ জুন ২০২৬

আজ সংবাদপত্রের কালো দিবস

ছবি: আপন দেশ

আজ ১৬ জুন (মঙ্গলবার) সংবাদপত্রের কালো দিবস। ১৯৭৫ সালের এ দিনে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে রেখেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাকশাল সরকার। সরকারি প্রচারপত্র হিসেবে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েছিলেন কয়েক হাজার সংবাদকর্মী। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার।

সংবাদমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা হরণের এ দিনটি ১৯৭৬ সাল থেকে সাংবাদিক সমাজ ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। 

দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)। সোমবার (১৫ জুন)  রাজধানীর সার্কিট হাউস সড়কে অবস্থিত তথ্য ভবনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

উদ্বোধনের পর তথ্যমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রদর্শনীর নানা দিক বিস্তারিতভাবে তার কাছে তুলে ধরেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। পরে প্রদর্শনী সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাকশাল প্রবর্তনের বছরের (১৯৭৫ সাল) ১৬ জুন চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলোর অনুমোদন বাতিল করা হয়। একযোগে দেশের সিংহভাগ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ব্যক্তিত্বের পতনের অন্যতম কারণ। এভাবেই তিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পিআইবি সে সময়ের সংবাদপত্রে বিষয়গুলো কীভাবে উঠে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রদর্শনী করেছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম এখান থেকে নানা বিষয় জানার সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন<<>>আজ বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস

এদিকে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে ‘যেদিন বাংলাদেশ দৃষ্টি খোয়ালো, কণ্ঠ হারালো’ নামের একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে পিআইবি। পুস্তিকাটি লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ। কীভাবে সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল এবং বাকশাল প্রবর্তনের সময় গণমাধ্যমের অবস্থা কেমন ছিল—এসব বিষয় সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এলে স্বাধীন সাংবাদিকতার সূচনা, পিআইবি প্রতিষ্ঠা, প্রেসক্লাব ও প্রেস কাউন্সিল গঠন নিয়েও পুস্তিকাটিতে আলোচনা করা হয়েছে।

১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের তিন বছর না যেতেই সংসদে আনা হয় সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী, যা গণতন্ত্রবিরোধী হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন ১৯৭৫ সালে বাকশাল সরকার সংবাদপত্র বন্ধের নির্দেশ দেয়। সাংবাদিকদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে সংবিধানে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন। তিনি বাকশালের কালো অধ্যায় বাতিল করেন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়