ফাইল ছবি
অবিলম্বে গণমাধ্যমসেবীদের জন্য ১০ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ও অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এখনও নবম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ কার্যকর হয়নি, সেখানে বকেয়াসহ তা বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।
নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মতো সাংবাদিকরাও চরম সংকটে। অথচ প্রায় এক দশক আগে ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ এখনও বহু প্রতিষ্ঠানে নানা কৌশলে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকরা বৈষম্যের শিকার হয়ে ১০ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার বিষয়টি বারবার এড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সাংবাদিক-ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেড় বছর ধরে দফায় দফায় দাবি জানানো হলেও অন্তর্বর্তী সরকার সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি; এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো কমিটিও গঠন করা হয়নি।
সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের গণমাধ্যমবান্ধব দাবি করলেও সাংবাদিকদের কল্যাণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পতিত সরকারের মতোই আমলা তোষণের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করে সরকার মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে আমলাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে সমাজে বৈষম্য আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে তারা স্পষ্ট করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য পেশাজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন না; কিন্তু এতে যেন অন্য পেশাজীবী, বিশেষ করে সাংবাদিকরা বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একসময় সাংবাদিকদের কাজের ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিবেচনায় চতুর্থ ওয়েজ বোর্ড পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে উন্নত ছিল। পরবর্তীতে আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদকর্মীরা ক্রমেই উপেক্ষিত হয়ে পড়েন।
অবশেষে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ১০ম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা, নবম বেতন বোর্ড পূর্ণ বাস্তবায়ন, বকেয়া পরিশোধ এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































