ছবি : সংগৃহীত
কোরবানির ঈদ আনন্দ, ত্যাগ ও সম্প্রীতির উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগির আনন্দও থাকে আলাদা। গরু বা খাসির মাংস দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি, রেজালা, কোরমা, কালাভুনা কিংবা কাবাব ছাড়া যেন ঈদের আয়োজন পূর্ণতা পায় না। তবে আনন্দের মধ্যেও খাবারের বিষয়ে সংযম ও সচেতনতা জরুরি।
গরু ও খাসির মাংসে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এসব উপাদান শরীরের পেশি গঠন, রক্ত তৈরি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে লাল মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের পরিমাণও বেশি থাকে। অতিরিক্ত খেলে হৃদরোগ, স্থূলতা ও রক্তে চর্বি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় ২৫০-৩০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে একবারে না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া ভালো। একই দিনে ডিম, মুরগি বা অন্য প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে মাংসের পরিমাণ আরও কমানো উচিত।
অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাদের দিনে ৬০-৯০ গ্রামের বেশি লাল মাংস না খাওয়াই ভালো। চর্বিযুক্ত অংশ এড়িয়ে কম চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যকর।
ঈদের মিষ্টান্ন যেমন সেমাই, পায়েস, পুডিং বা ফালুদায় অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি ব্যবহার না করাই ভালো। এর বদলে মৌসুমি ফল খাওয়া বেশি উপকারী। তরমুজ, পেঁপে, আনারস, আম বা জাম শরীরে ভিটামিন ও আঁশের যোগান দেয়।
অতিরিক্ত মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সঙ্গে ইসবগুলের ভুষি, তোকমা, চিয়া সিড, লেবুর শরবত বা ফলের রস খেলে হজম ভালো থাকে।
আরও পড়ুন <<>> ঈদের ছুটিতে শিশুদের নিয়ে যেখানে ঘুরতে যাবেন
খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি ও সালাদ রাখাও প্রয়োজন। প্রতি ৫০ গ্রাম মাংসের সঙ্গে অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি খেলে হজম সহজ হয় এবং শরীরে আঁশের ঘাটতি কমে।
স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। কম তেলে রান্না করা, অতিরিক্ত ভাজাভুজি এড়িয়ে চলা এবং মাংস রান্নার আগে লেবুর রস, টক দই, আদা বা রসুন দিয়ে মেরিনেট করলে তা সহজপাচ্য হয়। গ্রিল, স্টিম, স্যুপ বা স্ট্যু ধরনের খাবার তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যকর।
ভারী খাবারের পর বোরহানি, টক দইয়ের ঘোল, জিরা পানি বা ডাবের পানি উপকারী হতে পারে। তবে কোমল পানীয় ও কৃত্রিম রঙযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।
ঈদের দিনেও শরীরচর্চার অভ্যাস রাখা জরুরি। অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালরির প্রভাব কমে। রাতের খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানোও ঠিক নয়।
পরিমিত খাবার, স্বাস্থ্যকর রান্না এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে সুস্থ থেকেও ঈদের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব।
আপন দেশ/এসএস




































