ছবি : সংগৃহীত
ইশান কিষানের দুর্দান্ত বোলিং এবং তিলাক ভার্মার ঝড়ো ব্যাটে রীতিমত বিধ্বস্ত হলো জিম্বাবুয়ে। ২১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে আরেকটি অনায়াস জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল সফরকারীরা।
শনিবার (২৬ জুলাই) হারারেতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানের বিশাল জয় পেয়েছে ভারত। ২১৯ রানের পুঁজি গড়ে জিম্বাবুয়েকে স্রেফ ১২৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা। একই মাঠে প্রথম ম্যাচ ৭ উইকেটে জিতেছিল ভারত। ওই ম্যাচ দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে জয়ের খাতা খোলা শ্রেয়াস আইয়ার এবার পেলেন সিরিজ জয়ের স্বাদ।
এ সংস্করণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয়বার দুইশ স্পর্শ করল ভারত। সর্বোচ্চ গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চেন্নাইয়ে, ২৫৬। দুই বছর আগে হারারেতে করেছিল তারা ২৩৪। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুইশ ছাড়ানো রান ৫২ বার করল ভারত। তালিকায় তাদের ধারেকাছে নেই কেউ, দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৯ বার)।
চলতি বছর নবমবার দুইশ করল ভারত। ২০২৪ সালেও ৯ বার দুইশ করেছিল তারা। এক পঞ্জিকাবর্ষে তাদের চেয়ে বেশিবার দুইশ রান করার নজির নেই কারো। টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে ৭ বার করে দুইশ করতে পেরেছে জাপান (২০২৪ সাল), অস্ট্রেলিয়া (২০২৫ সাল)। এ তালিকায় আছে ভারতও (২০২৩ সাল)।
ভারতের এদিনের জয়ের নায়ক কিষান দুটি ছক্কা ও ৯টি চারে ৪৪ বলে ৮১ রান করেন। পাঁচে নেমে তিনটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ২৯ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিলাক। জিম্বাবুয়ের হয়ে তিনটি করে ছক্কা-চারে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন ব্রায়ান বেনেট। শেষ দিকে বাঁহাতি স্পিনে তিন উইকেট নেন ভারতের আভিশেক শার্মা।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুতে ভারতকে চেপে ধরে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ওভারে আভিশেককে ফিরিয়ে দেন ব্লেসিং মুজারাবানি। পরের ওভারে রিচার্ড এনগারাভার টানা চার বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে বিদায় নেন বৈভাব সুরিয়াভানশিও।
আরও পড়ুন<<>>কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল, ফের বিজ্ঞপ্তি বিসিবির
২৯ রানে দুই উইকেট হারানো ভারত ধাক্কা সামলে ওঠে শ্রেয়াস ও কিষানের ব্যাটে। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে শ্রেয়াসকে ফিরিয়ে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন বেনেট।
আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন কিষান। অন্যপ্রান্তে দ্রুত রান বাড়াতে থাকেন তিলাকও। মুজারাবানিকে টানা তিনটি চার মারেন তিনি। সিকান্দার রাজাকে দুটি চারের পর একটি ছক্কায় ওড়ান কিষান।
সপ্তদশ ওভারের শেষ বলে দৌড়ে দুই রান দিয়ে ২৩ বলে ফিফটিতে পা রাখেন তিলাক। ওই ওভার শেষে কিষানের রান ছিল ৮১। সেঞ্চুরি করার দারুণ সম্ভাবনা ছিল তার সামনে। কিন্তু পরের ওভারে বেনেটের দারুণ ক্যাচে শেষ হয় এ কিপার-ব্যাটসম্যানের ইনিংস।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরুর আভাস দিয়ে চতুর্থ ওভারে কট বিহাইন্ড হন বেনেট। এক বল পর বিদায় নেন বেন কারানও। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৫ উইকেট হারিয়ে ৬৯।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে রায়ান বার্ল, টাডিওয়ানাশে মারুমানি কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি তারাও। তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেন আভিশেক।
জয়ের ম্যাচে একটি দুর্ভাবনাও সঙ্গী হয়েছে ভারতের। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রাজাকে কট বিহাইন্ড করার পরই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে প্রিন্স ইয়াদাভের। তখন মাঠে ছেড়ে যাওয়া এ পেসার পরে আর মাঠেই নামেননি।
রোববার একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































