Apan Desh | আপন দেশ

কারাগারে মায়ের সঙ্গে কত শিশু জানতে চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৫:২১, ১৫ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৫:২২, ১৫ জুন ২০২৬

কারাগারে মায়ের সঙ্গে কত শিশু জানতে চান হাইকোর্ট

ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও তাদের বয়সের বিবরণ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ৈ প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন জানান, আদালত একই সঙ্গে একটি রুলও জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে—কারাগারে থাকা ওইসব শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, সঠিক বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না।

এর আগে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৯ মে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন্স) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>সোহেল রানা হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

কারা অধিদফতরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৯টি শিশু বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে ছেলেশিশু ১৪৬ জন এবং কন্যাশিশু ১৫৩ জন। এসব শিশুদের মায়েদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। 

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ১০০ জন, চট্টগ্রামে ৯০ জন, রাজশাহী ও রংপুরে ২৫ জন করে, খুলনায় ২০ জন, সিলেটে ১৯ জন, ময়মনসিংহে ১৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৪ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫১ জন শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে।

বাংলাদেশ জেল কোডের ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা তাদের সন্তানদের সর্বোচ্চ চার বছর বয়স পর্যন্ত কাছে রাখতে পারেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানদের কারাগারের ভেতরে রাখার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিশুর বয়স ছয় বছর পার হলে বা মা কারাগার থেকে মুক্তি পেলে শিশুটির স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর যেসব শিশুর অভিভাবক নেই, তাদের সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে সরকারি শিশুনিবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কারাগারের ভেতরে থাকা শিশুরা সাধারণত একটি কঠোর পরিবেশে বেড়ে ওঠে। বিশেষ করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের মতো জায়গায় শিশুদের হত্যা ও মাদক মামলার আসামিদের সঙ্গে একই সেলে থাকতে হয়। শিশুদের জন্য এ পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তাদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য বড় বাধা। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে কারাগারের ভেতরে থাকা শিশুদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্র নতুন করে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়