মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম: ফাইল ছবি
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে। প্রসিকিউটর টিমের একজন সদস্য জানিয়েছেন এ বিষয়ে সরকারের তরফে সবুজ সংকেত মিলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপিপন্থি এ প্রসিকিউটর বলেন, গত দুই-তিন দিন এ নিয়ে সরকারে আলোচনা চলছে, যা অনেকটা এগিয়েছে। তার দাবি, তাকে (চিফ প্রসিকিউটর) সরানো হবে, এটা নিশ্চিত। তবে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যেই কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা তা বলতে পারেননি তিনি।
এদিকে দীর্ঘদিন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) খবর কাভার করা ঢাকাভিত্তিক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানও ফেইসবুকে তাজুলকে সরে যেতে হচ্ছে বলে পোস্ট দেন। শনিবার মধ্যরাতে তিনি লেখেন, তার স্থলে আরেকজনকে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।
সূত্রের বরাত দিয়ে বার্গম্যান ফেইসবুকে লেখেন, তাজুলের স্থলে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম বিবেচনায় রয়েছে, যিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে দুর্নীতি মামলা পরিচালনকারী আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন।
এ বিষয়ে বার্গম্যানও সরকারের কারও বক্তব্য পাননি। আর তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও মন্তব্য করতে চাননি বলে ফেইসবুকে লেখেন এ সাংবাদিক।
বাংলাদেশের আইসিটির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা বার্গম্যান লেখেন, ‘একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাকে সরিয়ে অন্য আরেকজনকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাজুল ইসলামকে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হলে তাজুল ইসলাম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এ পোস্ট লেখার সময় পর্যন্ত সরকারের তরফে কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভোটের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর সম্প্রতি ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, তারা (বর্তমান প্রসিকিউশন টিম) না থাকলেও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলো চলবে। তখন তাদের চলে যাওয়ার কথা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি তেমন কোনো ইঙ্গিত পাননি বলে তুলে ধরেছিলেন।
আরও পড়ুন<<>>বুড়িগঙ্গায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে।
ইতিমধ্যে এ ট্রাইব্যুনাল এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও মামলা ও অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, যেখানে এখন সে সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিচার চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর পর নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অফিস শুরু করেছেন বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। সরকার বদলের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চিফ প্রসিকিউটরে দায়িত্ব পান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
সে সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এ চার প্রসিকিউটর হলেন- মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান।
তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী ছিলেন। তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। সে পদ থেকে তার পদত্যাগ করার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার দুদিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশন টিমের থাকা বা না থাকার বিষয়ে কোনো খবর আছে কি না জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, না, কোনো কথা হয়নি। আমাদেরকে বলা হয়েছে সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































