ছবি সংগৃহীত
সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে শোষকদের সুবিধা হয়। এ মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শুক্রবার ( ২৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারের নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এখানে মুহূর্তের মধ্যেই একজন রাজনীতিক বা যেকোনো ব্যক্তির চরিত্রহনন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাংবাদিকতাকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা, এর চেয়ে সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা আর আছে বলে আমার জানা নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সঠিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে কমপক্ষে ৫০০ জন সাংবাদিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন না।
বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আজ মুক্ত সাংবাদিকতা হুমকির মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে অনেক সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাংলাদেশে বাস্তবতা আরও কঠিন। এখানে সত্য সংবাদ প্রকাশের পর তা যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত হানে, তবেই ওই সাংবাদিকের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও জুলুম।
উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে এমন অনেক কিংবদন্তি সাংবাদিক ছিলেন, যারা লেখনীর পাশাপাশি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছেন।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অপসাংবাদিকতা একটি রাষ্ট্রকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠুর সঞ্চালনায় এবং সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, প্রবীণ সাংবাদিক ফজলে ইমাম বুলবুল, হারুন উর রশিদ, জয়নাল আবেদীন বাবুল, আপেল মাহমুদ, মোবারক হোসেন ও মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































