Apan Desh | আপন দেশ

সিইসিকে সরাতে দ্বিমুখী লড়াইয়ে ‘ইনডিয়া’ জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সিইসিকে সরাতে দ্বিমুখী লড়াইয়ে ‘ইনডিয়া’ জোট

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের  দাবিতে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নেমেছে বিরোধী ‘ইনডিয়া’ জোট। 

এ ইস্যুতে একদিকে সংসদের ভেতরে চাপ তৈরির চেষ্টা, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে জনমত গড়ার কৌশল। দুই পথেই এগোতে চাইছে জোটটি। তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। 

সিইসিকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের এই দ্বিমুখী লড়াই এখন ভারতের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, সুপ্রিম কোর্ট দিল্লিতে বেআইনি আটক বন্ধ করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের এই নির্দেশের পর বিরোধী জোট একদিকে রাজপথে বিক্ষোভ জোরদার করছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনারদের সুরক্ষায় প্রণীত ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি লড়াইয়েও নামতে যাচ্ছে।

যৌথ লড়াইয়ের কৌশল চূড়ান্ত করতে সোমবার দিল্লিতে মিলিত হচ্ছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই সেখানে আছেন।

আরও পড়ুন <> এবার সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা

এছাড়া রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) তেজস্বী যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবও দিল্লিতে পৌঁছাচ্ছেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বেঙ্গালুরু থেকে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে একটি আইনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের অভূতপূর্ব আইনি সুরক্ষা দেয়া হয়েছে, যা দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতিও পান না।

এই বিশেষ সুরক্ষার আড়ালেই শুরু হয়েছে ভোট চুরি, ইভিএম কারচুপি ও নির্বাচনি জালিয়াতি।

খাড়গে বলেন, সিইসি যত বড় অপরাধই করুন না কেন, ওই আইনের মাধ্যমে তাকে আজীবন জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে, যা জনগণের ভোট ছিনিয়ে নেয়া ও গণতন্ত্র ধ্বংসের সরাসরি চক্রান্ত।

ইনডিয়া জোটের প্রতিনিধি দল ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে।

তবে ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত জোট নেতাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিরোধীদের স্মারকলিপিতে সিইসির আইনি সুরক্ষা বাতিল, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদ এবং ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেমে ভোট চুরির নথিভিত্তিক প্রমাণ তুলে ধরা হচ্ছে।

আন্দোলন জোরালো করতে কংগ্রেসের সব সংসদ সদস্যকে দিল্লিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী তার নির্ধারিত গোয়া সফর আপাতত স্থগিত করেছেন।

গত ৬ অক্টোবর থেকে রাজঘাটে ধরনাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে এ জোট।

জোট নেতারা বলছেন, ককরোচ জনতা পার্টি'র কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ৩ হাজার আন্দোলনকারীকে আটকের পাশাপাশি শনি ও রোববার রাজধানীতে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর ৭ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

সরকারের এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি মোকাবিলায় বিরোধীরাও রাজপথ ও আদালতে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়