ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পালাবদলের খেলা। ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে গণবিক্ষোভে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার শেষ বাঁশি বেজে গেছে। এ খেলায় এবার যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশি ভারত।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, তরুণদের বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির দাবি এবং বিরোধী নেতাদের আটক। সব মিলিয়ে চাপে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
তবে এসব ঘটনা কি সত্যিই সরকারের পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি এটি আপাতত রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
শনিবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লির সামবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে কেন্দ্র পুলিশ।
তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নির্বাচনি সুবিধা দেয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে ভুয়া ও একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত ভোটারের নাম বাদ দেয়া প্রয়োজন।
তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার পর যোগ্য ভোটারদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিরোধীদের আশঙ্কা, এ প্রক্রিয়ায় দরিদ্র, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> সিজেপির আটক নেতাদের নিয়ে উদ্বেগ, মিলছে না খোঁজ
তাদের দাবি, সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সিজেপি প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইন পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছে।
এদিকে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আলোচনায় আসে সিজেপি।
সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপকে এর আগে শিক্ষাব্যবস্থাসংক্রান্ত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। জুলাইয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনকারীরা ঘটনাটিকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে বিরোধী নেতাসহ আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়। যন্তর-মন্তরে সমাবেশের পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশের বাধায় বড় জমায়েত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা একে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল।
তবে রাজনৈতিক চাপ বাড়লেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি শুধু বিক্ষোভের ওপর নির্ভর করে না। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো, অনাস্থা প্রস্তাবে পরাজয় কিংবা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন সরকারের পতনের প্রধান পথ।
তবে ভোটারদের আস্থা, কর্মসংস্থান, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং বিরোধীদের ঐক্য সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়লে আগামী নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালে নেপালে গণবিক্ষোভের পর ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতা ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করলেও দেশটির সরকার পতনের সম্ভাবনা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।
শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পরিসর, বিরোধীদের সংগঠিত অবস্থান এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাই নির্ধারণ করবে মোদি সরকারের সামনে গদি থাকা না থাকার ভাগ্য।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































