Apan Desh | আপন দেশ

হরমুজ খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, হামলার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৫১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, হামলার শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সহযোগীদের বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানে আবারও বোমা হামলা শুরু করবেন বলে আশা করছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তেহরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে যে অবরোধ আরোপ করেছে, তা তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া এবং পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরান এমন একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে, যার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ভেঙে দেয়া হবে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ তুলে নিতে ৭ দিনের একটি ‘রোডম্যাপ’ বা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইরান। 

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে এই প্রস্তাবের রূপরেখা তুলে ধরেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। 

আরও পড়ুন >< যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মানলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়।

মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ প্রায় সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরান কড়াকড়ি আরোপ করায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে বড় ধস নেমেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তীব্র প্রভাব ফেলেছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। 

প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো: আগামী ৭ দিনের মধ্যে গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা। 

যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা। 

ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭ দিনের সময়সীমার শেষ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। 

এর পরপরই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যে ইস্যুটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় ধরা হয়। 

তবে পাল্টাপাল্টি হামলা ও নথির স্পষ্টতার অভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেস্তে যায় এবং ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি বাতিল করেন। 

সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগের প্রতিশ্রুতিতে ফিরলে তেহরানও অবিলম্বে সাড়া দেবে।

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়