Apan Desh | আপন দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, স্বার্থ রক্ষায় চীনের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২২:০৬, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, স্বার্থ রক্ষায় চীনের হুঁশিয়ারি

ফাইল ছবি, আপন দেশ

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরান ও দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে চীন।

তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বেইজিং বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী। নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে চীন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই চীন ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। এ সহযোগিতায় হস্তক্ষেপ বা বাধা দেয়া উচিত নয়।

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে এ বাণিজ্য কমলেও ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এখনো চীনে যায় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

আরও পড়ুন<<>>মক্কা জোটে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ইরান

বেসেন্ট নতুন এ পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করলে ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ইরানের মতো বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধের অনুরোধ জানাবেন বলেও জানান তিনি।

চীনা ব্যাংকগুলোর প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ নয়। তবে বেইজিংয়ের পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কাও রয়েছে ওয়াশিংটনের।

কারণ বিশ্বের অধিকাংশ বিরল মৃত্তিকা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে চীন, যা উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানও নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। 

দেশটির অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় তেহরানের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য আরেকটি পরাজয় বয়ে আনবে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা অভিযানের নাম দিয়েছে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট। 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন যদি মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ইরানের তেল রফতানিতে নতুন পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত ও রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা পরিকল্পনায় প্রভাবিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো দেশ দুটির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়