Apan Desh | আপন দেশ

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত ও বাহরাইনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এছাড়াও ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

শনিবার (০৬ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি এ খবর নিশ্চিত করেছে।

তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের উসকানি বা আগ্রাসন চালানো হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হবে।  

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আলি আল-সালেম’ এবং বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (৫ম ফ্লিট) সদরদফতরের প্রধান স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। 

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের অননুমোদিত চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে এ সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মূলত হরমুজ প্রণালির কিশমি দ্বীপ এবং সিরিক এলাকায় অবস্থিত আইআরজিসির দুটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন হামলার পর পরই ইরান এ পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনার একটি বিশদ বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটে চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আইআরজিসি নেভির সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় না করে এবং তাদের দেয়া সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। 

ইরানি নৌবাহিনীর চূড়ান্ত সতর্কবার্তার পর একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেটির গতি রোধ করা হয়। বাকি তিনটি জাহাজ উল্টো পথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার ঠিক আধঘণ্টা পর, অর্থাৎ ভোররাত ২টার দিকে মার্কিন ড্রোনগুলো কিশমি দ্বীপ ও সিরিকে অবস্থিত ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়।

আরও পড়ুন <<>> ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জেনারেলসহ নিহত ৩

মার্কিন এ হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে। এক কড়া বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, এই ধরনের আগ্রাসী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের পক্ষ থেকে এর চেয়েও বড় এবং সীমাহীন জবাব দেয়া হবে।

একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকে হুঁশিয়ার করে তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালি যদি তেল ও গ্যাস রফতানির জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে—তার সম্পূর্ণ দায় এ জোটকেই নিতে হবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়