ছবি: আপন দেশ
বর্ষণমুখর আষাঢ়কে বিদায় জানিয়ে এসেছে শ্রাবণ। শ্রাবণের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর আকাশে দেখা মিলেছে সে চিরচেনা দৃশ্যের। সকাল থেকে কখনও কালো মেঘ, কখনও হালকা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি, আবার কখনও মেঘ সরিয়ে উঁকি দিয়েছে ঝলমলে রোদ। তবে এদিন বাজারে পরিবেশ মোটেও স্বস্তিকর নয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে বেড়েছে শাক-সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম।
ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমির ক্ষতি, খামার থেকে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর মুগদা, কমলাপুর ও ফকিরেরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন রাজধানীর মুগদা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থাকে ১২০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এ হিসেবে প্রতি কেজি বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। মানভেদে দেশি শসা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। শসার দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা।
করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। গাজর (দেশি) ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা ও মানভেদে কাঁচমরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁকরোল ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দর্শনীয় স্থান বন্ধ
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পুকুর ও ঘের তলিয়ে যাওয়া কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে এখন আকারভেদে চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০টাকা, আকারভেদে রূপচাঁদা ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঊর্ধ্বমুখী মুরগি ও ডিমের দামও। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। একই সঙ্গে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, বন্যা আর টানা বৃষ্টির প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও পণ্যের দাম বাড়ছে। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। আগে যে পরিমাণ মাছ-সবজি কিনতাম, এখন তার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি।
মুরগি ও ডিম বিক্রেতারা জানান, খামার ও আড়ত থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে ডিম ও ব্রয়লার মুরগি কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে বিক্রির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি। এতে ক্রেতারা যেমন অসন্তুষ্ট, আমরাও খুব বেশি লাভ করতে পারছি না। তবে আগামীতে আবহাওয়া ভালো থাকলে দাম কমতে পারে।
এদিকে, মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































