ছবি : আপন দেশ
যশোরের কেশবপুরে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণী রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েছে। এ অভিযানে প্রায় ২ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বিল, খাল ও নদীতে অবাধে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ, মাছের পোনা এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।
সাতবাড়িয়া ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদ এলাকায় চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকারের খবর ইউনিয়ন আনসার দলনেতাদের মাধ্যমে পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে কপোতাক্ষ নদ ও সংলগ্ন বিলের পানি থেকে আনুমানিক ২ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলামের নির্দেশনায় উদ্ধারকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম বলেন, চায়না দুয়ারি জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অবৈধ জাল। এ জালের মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এবং মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। সরকার দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তাই অবৈধ জালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন <<>> পলিথিন উৎপাদনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয় এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছি এবং মৎস্যজীবীদের আইন মেনে মাছ আহরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।
অভিযানকালে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী, পুলিশ সদস্য, আনসার সদস্য এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































