Apan Desh | আপন দেশ

পেঁপে বাগান ধ্বংস-কৃষককে হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

রাঙামাটি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:০২, ১ আগস্ট ২০২৬

পেঁপে বাগান ধ্বংস-কৃষককে হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ছবি : আপন দেশ

পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অব্যাহত চাঁদাবাজি ও বর্বরতার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০১ আগষ্ট) সকালে জেলা শহরের বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকার ব্রাহ্মণ টিলায় দীর্ঘদিন ধরে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছিলেন কৃষক খলিলুর রহমান। কিন্তু জেএসএসের কথিত অর্থ সংগ্রাহক (কালেক্টর) শান্তি রঞ্জন চাকমা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। খলিলুর রহমান এ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিনগত রাতের আঁধারে জেএসএস সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়ে বাগানের প্রায়  এক হাজার ৪০০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে যায় এ শ্রমজীবী কৃষক।

​এর আগে জেএসএসের আরেক ক্যাডার দীপেন চাকমা লংগদুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলে চরম বেপরোয়া হয়ে ওঠে এ শান্তি রঞ্জন চাকমা। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় চাঁদাবাজির রাজত্ব এবং সাধারণ মানুষদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।

​ভুক্তভোগী কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেয়া জমিতে  এক হাজার ৮০০ পেঁপেগাছ লাগিয়েছিলাম। জেএসএস সন্ত্রাসীদের ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় এক নিমিষেই তারা আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। এক হাজার ৪০০ গাছ কেটে আমাকে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার এবং জেএসএস সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লংগদু উপজেলার ৪ নম্বর বগাচত্বর ইউনিয়নের শিবেরআগা পরিত্যক্ত পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় জেএসএসের অর্থবিষয়ক সম্পাদক নতুনা চাকমার একটি দোকানঘরকে আস্তানা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও অপকর্ম চালিয়ে আসছে এ চক্রটি। পাহাড়ে জেএসএসের বর্বরতায় আজ পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর জীবন অতিষ্ঠ।

আরও পড়ুন<<>>ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

​সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রশাসনের কাছে কয়েকটি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষক খলিলুর রহমানের বাগান ধ্বংসকারী জেএসএস সন্ত্রাসী শান্তি রঞ্জন চাকমাসহ জড়িত মূল হোতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খলিলুর রহমানকে সরকারিভাবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। পাহাড় থেকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী আস্তানা চিরতরে উপড়ে ফেলতে লংগদুর শিবেরআগা পরিত্যক্ত স্থানে পুনরায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। সমগ্র রাঙামাটি জেলা জুড়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান নিতে হবে।

​বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাহাড়ে জেএসএস-এর এ সন্ত্রাসী রাজত্ব আর বরদাস্ত করা হবে না। মেহনতি মানুষের ওপর এই জুলুম বন্ধ না হলে পাহাড়ি-বাঙালি এক হয়ে রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম।

এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ( পিসিএনপি) রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ- সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, সহ-সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। 

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়