ছবি : সংগৃহীত, আপন দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে এ হুমকি দেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তবে তা হবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতোই।
আলী আবদুল্লাহি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনও ধরনের আমদানি বা রফতানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।
এমন শঙ্কায় হরমুজ প্রণালি থেকে সামরিক অবরোধ তুলে নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব। আরব কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ অবরোধের কারণে ইরান আরও ক্ষুব্ধ হতে পারে। এর জেরে তারা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বন্ধ করে দিতে পারে।
ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতেই এ অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আরব কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরব এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। দেশটির আশঙ্কা, অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। লোহিত সাগরের এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই সৌদি আরব তাদের অবশিষ্ট তেল রফতানি করে থাকে।
আরও পড়ুন<<>>যুদ্ধ শেষের পথে: ট্রাম্প
বাব আল-মান্দেব হলো ইয়েমেন ও হর্ন অভ আফ্রিকার মাঝখানের একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সুয়েজ খালের দিকে যাওয়া এ প্রণালি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও সৌদি আরব সম্প্রতি তাদের তেল রফতানি যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। মরুভূমির ভেতর দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরে অপরিশোধিত তেল পাঠিয়ে তারা প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করছে। কিন্তু লোহিত সাগর থেকে বের হওয়ার পথটি (বাব আল-মান্দেব) বন্ধ হয়ে গেলে এ সরবরাহ হুমকিতে পড়বে।
তাই বাব আল-মান্দেবে জাহাজের ওপর যেকোনো হামলা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আরব পারস্য উপসাগরের রাস তানুরা স্থাপনা থেকে অপরিশোধিত তেল রফতনি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সরিয়ে নেয়।
ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেবের কাছের উপকূলের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আরব কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণালিটি আবার বন্ধ করে দিতে হুথিদের ওপর চাপ দিচ্ছে ইরান।
ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো ও ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ব্যারন বলেন, ইরান যদি সত্যিই বাব আল-মান্দেব বন্ধ করতে চায়, তবে হুথিরাই তাদের প্রধান সহযোগী হবে। গাজা সংঘাতে হুথিদের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে এ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































