ছবি: সংগৃহীত
ইরান -আমেরিকা যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার পর লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ঈসরাইল। লেবাননে ইসরায়েলের এ হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবাস আসলানি বলেন, ইরানের প্রধান শর্তগুলোর একটি ছিল—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতির আগে যে অবস্থায় লেবানন ছিল, সেখানে ফিরে যেতে চায় না দেশটি। তার মতে, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আসলানি বলেন, হিজবুল্লাহ চায় না আগের সে অবস্থা আবার ফিরে আসুক। তারা নিশ্চিত করতে চায়, এ সংঘাত একসময় পুরোপুরি থামবে, যা ইরানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হামলা পরিস্থিতি আলোচনা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে, এমনকি ইরান আসন্ন বৈঠক স্থগিতও করতে পারে।
আরও পড়ুন<<>>ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের
এদিকে, লেবাননে বিমান হামলার মাধ্যমে অভূতপূর্ব তাণ্ডব শুরু করেছে ইসরায়েল। এ হামলাকে দুই দেশের সংঘাতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সামরিক অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী বৈরুতের এমন অনেক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের আবাসিক ভবন, মসজিদ, যানবাহন এবং কবরস্থান লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন জানিয়েছেন, এ হামলায় কয়েকশ মানুষ হতাহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত থাকায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































