ফাইল ছবি, আপন দেশ
তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি জ্বালানি চাহিদা পূরণে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদনের তথ্য সাংবাদিকদের জানায়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব ছিল এক লাখ টন করে তিন কোম্পানি থেকে মোট তিন লাখ টন ডিজেল কেনা হবে। ডিজেল কেনার তিন প্রস্তাবই নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। ডিজেল সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে ইয়ার এনার্জি এজি, কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি এবং সিকদার ইন্টারন্যাশনাল।
আরও পড়ুন<<>>হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু
প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এ ডিজেল কেনা হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অর্থাৎ উন্মুক্ত কোনো দরপত্র ডাকা হবে না। গণ খাতে ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং গণ খাতে ক্রয় বিধি, ২০০৮ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এবং পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করে আসছে। অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয় ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির মাধ্যমে।
সাধারণত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে নীতিগত অনুমোদনের পর একই দিন সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু আজ ক্রয় কমিটির কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক রফতনিকারক দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত করে।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪ এপ্রিল সর্বশেষ সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটিসহ যুদ্ধের পর মোট ৯ লাখ ৮৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ৯ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯টি প্রস্তাব ক্রয় কমিটিতে অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ এনার্জি ও এক্সনমবিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, হংকংভিত্তিক সুপারস্টার গ্রুপ, ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল, এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস, বিএসপি এবং মালয়েশিয়াভিত্তিক আবির ট্রেডিং অ্যান্ড গ্লোবাল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, সংকটকালে সব সময়ই নতুন নতুন সরবরাহকারী তেল বেচতে আগ্রহী হয়। এবারও সেটাই ঘটেছে। এখন পর্যন্ত তেল আমদানির কোনো ঋণপত্র (এলসি) খোলেনি কোনো প্রতিষ্ঠান। এলসি খোলার ন্যূনতম শর্ত হচ্ছে জামানত, যা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নামে পরিচিত। আটটি কোম্পানি পিজি জমা দেয়নি। তবে একটি প্রতিষ্ঠান অসম্পূর্ণ পিজি জমা দিয়েছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































