Apan Desh | আপন দেশ

ঢাকার সঙ্গে আরও ‘জোরদার’ সম্পর্ক দেখতে চায় দিল্লি: জয়সওয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:৪২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকার সঙ্গে আরও ‘জোরদার’ সম্পর্ক দেখতে চায় দিল্লি: জয়সওয়াল

রণধীর জয়সওয়াল।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির বহুমাত্রিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের নির্বাচনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও উষ্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি নরেন্দ্র মোদীর একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।

জয়সওয়াল বলেন, চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

ব্রিফিংয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির আলোচনা হবে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। সবশেষ গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে আরেক দফা অবনতি ঘটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল মানুষ, সেসময় মিশনে ঢিলও ছোড়া হয়।

এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। পরের দিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

এর মধ্যে নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থনের দেয়ার কথা বলেন।

অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। তবে মোদীর পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন স্পিকার বিড়লা।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গতি পায় দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমও। শুক্রবার থেকে দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন।

আগের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিয়মকালে সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরবে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়