Apan Desh | আপন দেশ

আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

আন্তজাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৯, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:১২, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে মিয়ানমার। প্রথম দিনেই রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে দেশটি।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শুনানিতে এ অবস্থানের কথা জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মিয়ানমারের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখাতে পারেনি গাম্বিয়া। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনেও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করে দেশটি। 

শুনানিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং আইসিজের বিচারকদের বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তব পরিস্থিতি ও আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগের মধ্যে কোনো মিল নেই।

এর এক সপ্তাহ আগে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জেলো আদালতে অভিযোগ করেন, মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে ‘গণহত্যামূলক নীতি’ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে। 
তার দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও বৈষম্যের ধারাবাহিকতায় এ জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক অভিযান চালানো হয়। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ওই অভিযানের ফলে অন্তত সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়। প্রাণ বাঁচাতে তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। শরণার্থী হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ এবং গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়।

জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন ওই ঘটনার তদন্ত শেষে জানায়, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

তাদের দাবি, সশস্ত্র মুসলিম গোষ্ঠীর হামলার জবাবে সেনাবাহিনী বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিল।

এর আগে ২০১৯ সালে আইসিজেতে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেতা অং সান সু চি গাম্বিয়ার অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন।

শুক্রবারের শুনানিতে কো কো হ্লাইং বলেন, উত্তর রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীরা অবাধে তৎপরতা চালালে মিয়ানমার নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তার ভাষায়, ওই হামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় পরিচালিত অভিযানকে বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাস দমন অভিযান বলা যেতে পারে।

গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলাটি দায়ের করে। দেশটির দাবি, নিজেদের সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে দায়বদ্ধতার অনুভূতি নিয়ে তারা এ মামলা করেছে।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বহু দশক ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। যার পরিণতিতেই ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান ঘটে।

তার অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে গণহত্যামূলক নীতি গ্রহণ করাই ছিল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মূল উদ্দেশ্য।

গাম্বিয়ার পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপনকারী আইনজীবীরা বলেন, নারী, শিশু ও বয়স্কদের হত্যা এবং গ্রাম ধ্বংস কোনোভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

আরও পড়ুন <<>> নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খালে, একই পরিবারের ১৪ জন নিহত

গাম্বিয়ার আইনজীবী ফিলিপ স্যান্ডস বলেন, সব প্রমাণ একত্রে বিচার করলে আদালত কেবল এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারে যে, মিয়ানমার জেনে-বুঝেই রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নিয়েছিল।

এ মামলায় গাম্বিয়া মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর সমর্থন পেয়েছে। এতে মোট ৫৭টি মুসলিম দেশ যুক্ত রয়েছে।

শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং বলেন, বর্তমানে যারা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোভিড-১৯ মহামারির মতো বহিরাগত কারণ এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আদালতকে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গাম্বিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ গাম্বিয়া বলছে, মিয়ানমারের উদ্দেশ্যই ছিল এ জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করা বা দেশত্যাগে বাধ্য করা।

হ্লাইং আরও বলেন, গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা মিয়ানমার ও তার জনগণের ওপর একটি অমোচনীয় দাগ হয়ে থাকবে। সে কারণেই এ মামলার রায় দেশের সুনাম ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আদালত তিন দিন ধরে জীবিত রোহিঙ্গা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার সময় রেখেছে। তবে এ শুনানিগুলো সাধারণ দর্শক ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ বছরের শেষ নাগাদ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ মামলার রায় গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার মামলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়