Apan Desh | আপন দেশ

রাইসির মৃত্যুর পেছনে ইসরায়েল জড়িত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৮, ২০ মে ২০২৪

আপডেট: ১৯:০৯, ২০ মে ২০২৪

রাইসির মৃত্যুর পেছনে ইসরায়েল জড়িত?

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা গেছেন। এতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। রাইসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খোমেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও কট্টরপন্থি নীতির জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন ইরান সরকার হাজারো রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড দেয়। সে সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রাইসি। পরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন।

তার শাসনকালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে অস্ত্র বানানোর পর্যায়ের কাছাকাছি নিয়ে যায় ইরান। এছাড়া ইসরায়েলের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ফলে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তার মৃত্যুর ঘটনা অনেক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ দুর্ঘটনা ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় অনিশ্চয়তার কালো মেঘে ছেয়ে গেছে ইরান; যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যু কেবল ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সূত্রপাতই করবে না, বরং ওই অঞ্চলেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন>> রাইসিকে হত্যা করা হয়েছে?

ক্রমবর্ধমান তীব্র উত্তেজনা আর সংঘাতের মাঝে রাইসির অনুপস্থিতি ইরানের ভেতরে ও বাইরে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যদিও দেশটির সরকারি ব্যাখ্যায় এখন পর্যন্ত বৈরি আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হচ্ছে। তবে এ দুর্ঘটনায় শত্রুপক্ষের জড়িত থাকার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে রাইসির এমন মৃত্যুর ঘটনায় ভেতরের শত্রু বা ইসরায়েল যুক্ত কিনা সে প্রশ্ন উঠছে।

ইব্রাহিম রাইসির মরদেহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ইসরায়েল জড়িত?
ইরান এবং ইসরায়েলের ঐতিহাসিকভাবেই বৈরি। ফলে কারও কারও ধারণ এ দুর্ঘটনার পেছনে তেল আবিবের হাত থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণাটি উড়িয়ে দিয়েছেন। এর কারণ একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা মানে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। তাছাড়া ইসরায়েল উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তির চেয়ে সামরিক বা পারমাণবিক অবস্থান বা ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নেয়।

আরও পড়ুন>> ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টারে যা ঘটেছিল

কিন্তু দামেস্কে ইসরায়েলের একজন ইরানি জেনারেলকে হত্যা, পরে ইসরায়েলে ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; এসব ঘটনায় সৃষ্ট সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিবেচনায় এ তত্ত্বটি অনেকের মনোযোগ কেড়েছে। ইরানের স্বার্থের বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা ও নিখুঁত অভিযান চালানোর জন্য মোসাদের ব্যাপক পরিচিতি আছে। যদিও ইসরায়েলি এ গোয়েন্দা সংস্থা কখনোই কোনো রাষ্ট্রের প্রধানকে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। 

ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইসরায়েলের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ করার জোরালো কারণ রয়েছে। ইসরায়েল কখনও কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করার মতো এতদূর অগ্রসর হয়নি। এর অর্থ হবে দ্ব্যর্থহীন যুদ্ধ; যা ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া উসকে দেবে।

এদিকে রাইসির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ‘এর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়’। তবে প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুকে এখন ‘দুর্ঘটনা’ই বলছে ইরান।

মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ প্রকাশ্যে আসে। পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তারপর দৃশ্যত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তখন থেকে অস্বস্তিকর অবস্থার ইতি ঘটেছে বলেই মনে হয়। কিন্তু গাজা যুদ্ধে হামাস ও হিজবুল্লাহকে ইরান সমর্থন দিচ্ছে ইসরায়েলের এ পুরনো অভিযোগ সামনে চলে এসেছে। ফলে উপরে উপরে পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে দুপক্ষের মধ্যেই চাপ বিরাজ করছে।

আপন দেশ/এসএমএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়