Apan Desh | আপন দেশ

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে বড় হামলার প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

আান্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে বড় হামলার প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী। 

এ বিষয়ে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এ হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুর দিকে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান বন্ধ করার পর থেকে ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় সীমিত আকারে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার সম্ভাব্য অভিযান সেই সীমিত হামলার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ছোট্ট ভুল থেকে বড় যুদ্ধ, আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যছোট্ট ভুল থেকে বড় যুদ্ধ, আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্য
বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে পেন্টাগন ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। 

তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যেকোনো সময় এ নির্দেশ আসতে পারে, তবে অধিকাংশের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালানো আগের চেয়ে কঠিন হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল সম্পর্কে ইরানি বাহিনীর অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলে সম্ভাব্য সব লক্ষ্যবস্তু কার্যকরভাবে ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। 

তা সত্ত্বেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছে। এতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা ও পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে।

পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে সিএনএনকে বলেন, পেন্টাগনের কাজ হলো বিভিন্ন সামরিক বিকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং প্রেসিডেন্ট যে বিকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেবেন, তা কার্যকর করা।

আরও পড়ুন <> মক্কা জোটের সঙ্গে ইরাসের বৈঠক

তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ইরান ও হুথিরা আগ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বা ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনা কম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল প্রথমে ইরানে হামলা চালালে তারা পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে ধাপে ধাপে কর্মী সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকতে পারে। 

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসই বর্তমানে ওই অঞ্চলে একমাত্র কূটনৈতিক স্থাপনা, যেখানে কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে অন্য দূতাবাসগুলোতেও একই ধরনের নির্দেশ আসতে পারে। আর যেসব স্থাপনায় এমন নির্দেশ দেয়া হবে না, সেখানেও কর্মীর সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নামিয়ে আনা হতে পারে।

এদিকে, গত এক সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময় ধরে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল ইসরায়েল। 

এ বিষয়ে অবগত তৃতীয় এক সূত্র জানিয়েছে, নতুন হামলার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ের জন্যও তৎপরতা চালাচ্ছিল তেল আবিব।

তবে ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আপাতত হামলা স্থগিত রাখতে বলেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশ যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তারা।

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়