ছবি: আপন দেশ
পূজার টানা ছুটির কারণে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। সড়কে গাড়ি এবং পথচারীর সংখ্যা হাতে গোনা। ছুটির প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন কাঁচাবাজারে। ক্রেতাদের উপস্থিতি কমলেও সবজির বাজার চড়াই। আগাম শীতকালীন সবজির অধিকাংশই কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার বেশি দামে। মাছ ও মুরগির বাজার এখনো চড়া। তবে ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিন রাজধানীর মুগদা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১১০ টাকায়। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও শসার দাম ৮০-১০০ টাকা। টমেটো ১০০-১২০ ও শিম ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি কেজি পটোল ও ঢেঁড়স ৬০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৭০, ঝিঙা ৭০-৮০, মুলা ৫০-৬০, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ ও কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৬০-৭০ টাকা। মান ও বাজারভেদে কাঁচামরিচের দাম ১০০-১৬০ টাকা কেজি।
বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। আলুর দাম আগের মতোই কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা।
কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম প্রতিদিন, এমনকি সকাল-বিকালেও পরিবর্তন হয় বলে জানান সবজি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি আসছে। মৌসুমের শুরুতে এসবের দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ সময়ে কৃষকরাও ফসলের ভালো দাম পান। তবে শীতকালীন সবজির পুরোদমে মৌসুম শুরু হলে দাম কমে আসবে।
এদিকে গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে কেনা যাচ্ছিল। এ মুরগি এখন সর্বনিম্ন ১৮০ টাকা থেকে শুরু করে বেশিরভাগ দোকানে প্রতিকেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা।
মুরগি ব্যবসায়ী ছানোয়ার হোসেন বলেন, হটাৎ কয়েক দিন ধরে খামার পর্যায়েই মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। ছুটির কারণে এমন হতে পারে। সে সঙ্গে পরিবহন খরচ ও পোল্ট্রি ফিডের দাম চড়া থাকায় আড়তদারদের বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
আরও পড়ুন<<>>দেশে আরেক দফা কমলো স্বর্ণের দাম
এদিকে মুরগির বাজারে আগুন থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে ডিমের দোকানে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ডিমের দাম নিম্নমুখী। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে।
ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি নানা নজরদারি এবং বাজার তদারকির কারণে পাইকারি পর্যায়ে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ছুটির মধ্যে ডিমের চাহিদা কম, আড়তে ডিম জমিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে, ডিমের দাম আগের চেয়ে কমে এসেছে এবং আগামী কয়েক দিন দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।
ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। গতকাল প্রতি কেজি রুই মাছ (এক থেকে দেড় কেজি ওজনের) বিক্রি হয়েছে ৩৩০-৩৬০ টাকায়। এছাড়া পাবদা ৩৫০-৩৮০, ছোট কাঁচকি ৩৮০-৪০০, টেংরা ৩০০-৩৫০, চাষের কৈ ২৫০-২৮০, তেলাপিয়া ২২০-২৪০, চাষের পাঙাশ ২০০-২৩০ ও সরপুঁটি ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে তার থেকে ১০-২০ টাকা কমে মিলেছে।
ডিমের দামেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা। ডজনপ্রতি দাম পড়ছে ১৫০ টাকা।
রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশী ও আমদানি দুই ধরনের রসুনের দামই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একই পরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা আদার দামও।
বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারাও। বাজার করতে হাফিজুর রহমান বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। নানা ধরনের শাকসবজিও বাজারে উঠছে। কিন্তু দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। সব পণ্যের দামই বেশি থাকায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সবজির দাম কমলে অন্তত ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেত।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































