ছবি : সংগৃহীত
আর্সেনাল ক্লাবটি উত্তর লন্ডনের বিখ্যাত ‘হাইবারি’ স্টেডিয়াম ছেড়েছে প্রায় ২০ বছর আগে। কিন্তু কারাবাও কাপে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউনের হোমগ্রাউন্ড। যার নামও ‘হাইবারি স্টেডিয়াম’। সেখানে এসে এমন এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে হবে, তা হয়তো প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কল্পনাতেও ছিল না।
স্বাগতিকদের লাল-সাদা জার্সির ঝড়ে লন্ডনের গানাররা ম্যাচ হেরে বসেছে টাইব্রেকারে (৫-৩)।
ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অঘটন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে ল্যাঙ্কাশায়ারের ছোট্ট উপকূলীয় শহরের ক্লাব ফ্লিটউড টাউন।
মংগলবার ম্যাচের শুরুতেই মাঠে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয় দর্শকেরা। স্টেডিয়ামের ওপর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত 'ড্রোন' উড়তে দেখে নিরাপত্তা স্বার্থে রেফারি মাইকেল স্যালিসবারি খেলা প্রায় ৬ মিনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। দুই দলের খেলোয়াড়দের টাচলাইনে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে ড্রোন চালককে চিহ্নিত করার পর খেলা পুনরায় শুরু হয়।
আতশবাজির লাল ধোঁয়া আর ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে খেলা শুরু হতেই ২১ মিনিটে স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসে ভাসান অ্যারন লুপালো-বি। ফুলহ্যাম থেকে ধারে আসা এই তরুণ ফরোয়ার্ড আর্সেনালের ১৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মার্লি সালমনকে পেছনে ফেলে লক্ষ্যভেদ করেন।
বিরতির পর আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড মাঠে নেমে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং ৫০ মিনিটে ভিক্টর গিওকেরেস গোল করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান। কিন্তু এরপরেও ফ্লিটউডকে কাবু করা যায়নি। ম্যাচের শেষভাগে ফ্লিটউডের হ্যারিসন নিলের সাথে ট্যাকলে জড়িয়ে মেজাজ হারিয়ে বসেন আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা ম্যাক্স ডাওম্যান। পালটা লাথি মারার অপরাধে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে বলা হয়।
আরও পড়ুন <> টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক
১০ জনের আর্সেনাল শেষ মুহূর্তে কাই হাভার্টজ ও বেন হোয়াইটের মাধ্যমে জেতার সুযোগ পেলেও ফ্লিটউডের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। একসময় সাধারণ গুদামে শ্রমিকের কাজ করা লিঞ্চ একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ দিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান।
এরপর টাইব্রেকারে ব্রাজিলিয়ান আন্তর্জাতিক তারকা ব্রুনো গিমারেসের শট আটকে দিয়ে এক রূপকথার নায়ক বনে যান তিনি। শেষ শটে ১৯ বছর বয়সী কনর হাগি বল জালে জড়ালে কানায় কানায় পূর্ণ হাইবারি স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি এই ম্যাচ থেকে প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড আয়ের লক্ষ্য নিশ্চিত করেছে ফ্লিটউড টাউন। অথচ দলটির ম্যানেজার ম্যাট ললোর এক বছর আগেও কোনো পেশাদার ক্লাবের মূল কোচ ছিলেন না; পেশাদার ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতাও তার নেই। ম্যাচের আগে পেনাল্টি অনুশীলনের অভাব বা ইএফএলের নিয়ম না জানার ভুলগুলো ছাপিয়ে তার দল গড়েছে ইতিহাস।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কোচ ললোর বলেন, এটি শুধু ফুটবলের জয় নয়, এটি আবেগের জয়। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের এভাবে আটকে দিয়ে হারানো—একটি ছোট ক্লাবের জন্য জীবনে একবারই আসে।
১৯৯২ সালে রেক্সহ্যাম কর্তৃক আর্সেনালকে এফএ কাপ থেকে বিদায় করে দেওয়ার পর গত ৩৪ বছরে চতুর্থ স্তরের কোনো দলের হাতে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
লিগ টু-তে নিজেদের শেষ সাতটি ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরে ব্যাকফুটে থাকা ফ্লিটউডের জন্য এটি শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, ক্লাবের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর তরুণ সেন্টার-ব্যাক কনর হাগি লাইভ টিভিতে উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমরা ইংলিশ ফুটবলের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছি, এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য!
পয়েন্ট তালিকায় আর্সেনালের চেয়ে ৮৪ ধাপ পেছনে থাকা এবং গত মৌসুমে লিগ ওয়ান থেকে রেলিগেটেড হওয়া ফ্লিটউড টাউনের জন্য এই জয়টি ইংলিশ ফুটবলের নথিপত্রে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































