১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিনও ভালোবাসা দিবস ছিল। তবে ভালোবাসা নয়, এক অন্যরকম তেজের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উচ্চবর্ণের ঠাকুর সমাজকে শিক্ষা দিয়েছিলেন ‘দস্যুরানী’ ফুলন দেবী। নিজের সঙ্গে ঘটা ধর্ষণ ও অন্যান্য অত্যাচারের প্রতিশোধ নেন। এজন্য কানপুরের রাজপুর থানার বেহমাই গ্রামে ২০ জনকে হত্যা করেছিলেন। তার দলের সদস্যরা তাকে সহায়তা করেছিল। আশির দশকের সেই হত্যাকাণ্ডের পর পাড় হয়ে গেল ৪৩ বছর। অতঃপর ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরের একটি আদালত সাজা ঘোষণা করল সংশ্লিষ্ট দুজনের।
ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে দুজন বেঁচে আছেন। এর মধ্যে একজনের নাম শ্যামবাবু কেওয়াত এবং অন্যজন বিশ্বনাথ। তার মধ্যে শ্যামবাবু কেওয়াতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, প্রমাণের অভাবে অন্যজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
আরও পড়ুন>> দিল্লিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১১
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুলন দেবীর হাতে খুন হওয়াদের মধ্যে ১৭ জন উচ্চবর্ণের ঠাকুর সমাজের। যারা কিনা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে ঘরে আটকে টানা কয়েক দিন ধর্ষণ করেন। এর প্রতিশোধ নিতেই ফুলন দেবী ডাকাত দলে যুক্ত হয়। পরে ২০ জনকে হত্যা করেন।
সেই ঘটনায় গোটা ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভিপি সিং। ওই ঘটনায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। তবে বিচার চলাকালীন ৩২ জন মারা গেছেন।
আর মামলা চলাকালীন ২৮ জন সাক্ষী মারা যান। ২০১২ সালে কানপুরের ওই আদালতে চার্জ গঠন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, এই হত্যাকাণ্ডের পরেই ফুলন দেবীর নাম দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একটি সাধারণ ক্ষমা প্রকল্পের অধীনে, গণহত্যার দুই বছর পর মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জেলেও ছিলেন ফুলন দেবী। পরে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ফুলন দেবীকে গুলি করে হত্যা করে এক আততায়ী।
আপন দেশ/এসএমএ
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































