Apan Desh | আপন দেশ

ইরানে সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদিকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:২৬, ১৯ জুন ২০২৬

ইরানে সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদিকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালে লাইভস্ট্রিম করা একটি কনসার্টে অংশ নেয়ার অপরাধে ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি এবং সংগীতজ্ঞসহ তার প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা (চাবুক) মারার সাজা দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গার্ডিয়ান। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, কোয়ম প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত এ শিল্পীদের দোররা মারার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং দুই বছরের জন্য যেকোনো ধরনের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

ইন্টারনেট দুনিয়ায় ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট’ তৈরি এবং প্রকাশের মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা ও শালীনতা ভঙ্গ করার অভিযোগে তাদের এই সাজা দেয়া হয়। 

যদিও ইরানের সরকারি বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা এখনো এ রায় প্রকাশ করেনি। তবে অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা জানান, সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া শিল্পীদের গ্রেফতার এবং আইনি প্রক্রিয়ার এই ধরনটি মূলত সাংস্কৃতিক ভিন্নমতকে দমন করার একটি বিস্তৃত প্রচেষ্টার অংশ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, ২৯ বছর বয়সি এ গায়িকা হিজাব ছাড়া একটি লাইভ পারফরম্যান্সে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ‘আজ খুনে জাভানানে ভাতান’ (স্বদেশের যুবকদের রক্ত থেকে) নামক একটি দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। 

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন সংগীতশিল্পীকে কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল, যদিও পরে তারা মুক্তি পান। তবে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি প্রকাশের অপরাধে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করে। ইউটিউবে ইতোমধ্যে ভিডিওটি লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’র অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর বাহার ঘান্দেহারি বলেন, ‘শুধুমাত্র গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার জন্য পারাস্তুকে ৭৪টি দোররা মারার এই শাস্তি একটি নির্মম অনুস্মারক। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নত করার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের নানামুখী যুদ্ধকালীন প্রচারণা সত্ত্বেও দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সরকারি প্রচারণার ছবি এবং বাস্তব জীবনে শিল্পীদের ওপর এই নির্যাতনের ঘটনাটি মূলত শাসনব্যবস্থার ‘প্রচারণা এবং বাস্তবতার মধ্যকার বিশাল ব্যবধানকে’ মুখোশহীন করে দেয়। 

ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা ‘দাদবান’-এর একজন মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেন, এ রায়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ইরানি শিল্পীদের জন্য এই রায়টি অপ্রত্যাশিত না হলেও, এটি দেশটির ভেতর সাংস্কৃতিক দমন-পীড়ন আরও বৃদ্ধির আশঙ্কাকে গভীর করেছে।

আরও পড়ুন : হানিমুনে নীলার রোমান্টিক মুহূর্ত ভাইরাল

ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেতা নাজানিন বোনিয়াদি বলেন, “হিজাব ছাড়া প্রকাশ্যে গান গাওয়ার মতো একটি সাধারণ কাজের জন্য পারাস্তু আহমাদিকে দোররা মারার এ সাজা একটি কঠোর বার্তা। ওয়াশিংটনে ইরানের ‘নতুন শাসনব্যবস্থা’ নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা আসলে অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।”

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়