ছবি : আপন দেশ
প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের যুগে হাতে লেখা চিঠির আবেগ ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কুমিল্লা ডাক বিভাগের আয়োজনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চিঠি উৎসব হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রিয়জনের কাছে চিঠি লেখা ও পাঠানোর সুযোগ। মাত্র ১২ থেকে ২২ টাকায় বিশেষ ডাকসেবার মাধ্যমে চিঠি পাঠান শিক্ষার্থীরা। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের সময়ে কাগজ-কলমে মনের কথা প্রকাশের এ সুযোগে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা যায় আগ্রহ ও আবেগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা যুথি বলেন, চিঠির মধ্যে অন্য রকম এক আবেগ লুকিয়ে আছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে আমরা চিঠি লিখতেই ভুলে গেছি। এখানে এসে চিঠি লিখতে পেরে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম প্রথমবারের মতো তার প্রয়াত দাদাকে চিঠি লেখেন। তিনি বলেন, আমি আজ প্রথমবার চিঠি লিখছি আমার দাদাকে। কিন্তু তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। তাকে নিয়ে মনের কথাগুলো চিঠির কাগজে প্রকাশ করছি। যদিও তার ঠিকানায় কখনোই পৌঁছাবে না এ চিঠি।
উৎসবে অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা চিঠি লেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। দীর্ঘ ২৩ বছরের সংসারে এক ছাদের নিচে থেকেও যে কথা কখনো মুখে বলা হয়নি। তা আজ চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করলাম।
আরও পড়ুন<<>>মহালয়ার পুণ্যক্ষণে কুবিতে দেবীপক্ষের আবাহন
চিঠি লেখার পাশাপাশি উৎসবে ছিল ডাকটিকিট ও ডাক বিভাগের বিভিন্ন সামগ্রীর প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০ ও ২০ টাকা মূল্যমানের ঐতিহ্যবাহী ও স্মারক ডাকটিকিট স্থান পায়। তরুণ প্রজন্মকে ডাকটিকিটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতেই এ আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন স্টলে বিক্রি করা হয় ডায়েরি, ক্যালেন্ডার এবং ছোট-বড় লেটার বক্স।
এ ছাড়া পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ডাক, রেজিস্ট্রি চিঠি, স্পিড পোস্ট, পার্সেল, বৈদেশিক ডাক, সঞ্চয় হিসাব ও সঞ্চয়পত্র এবং ডাক বিভাগের নগদ সেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিসা হাসানাত নোহা বলেন, উৎসবের বিভিন্ন স্টল থেকে নব্বইয়ের দশকের বিভিন্ন খাম ও স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেছি, যা অনেক আনন্দের। খুবই উৎসাহের সঙ্গে চিঠি উৎসব উপভোগ করছি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার ঘটলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো রয়েছে। সময়ের সঙ্গে ডাক বিভাগ নিজেদের সেবায় পরিবর্তন এনেছে এবং নতুন নতুন সেবা যুক্ত করেছে। তবে প্রচারণার অভাবে অনেকেই এসব সেবা সম্পর্কে জানেন না। তাই সময়োপযোগী প্রচারণার মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে ডাকসেবা পৌঁছে দেয়া, চিঠি লেখার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের চিঠি লিখতে উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি স্পিড পোস্ট ও পার্সেলসহ ডাক বিভাগের আধুনিক সেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতেও এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ডাক বিভাগের সেবা গ্রহণের আহবান জানান।
সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































