Apan Desh | আপন দেশ

ফেসবুক পোস্টে কমেন্টের জেরে হুমকি

ইবি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ২০ জুন ২০২৬

ফেসবুক পোস্টে কমেন্টের জেরে হুমকি

ছবি: আপন দেশ

ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করার জেরে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে হল থেকে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব বাধন বিশ্বাস স্পর্শ। 

ফেসবুকে করা মন্তব্যের জেরে অকথ্য গালিগালাজের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর হলের সিটের ব্যাপারেও দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছে এক ছাত্র।

ইবির বিতর্কিত এ ছাত্রনেতা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সজীব হাসান। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ইবির বিতর্কিত এ ছাত্রনেতার এহেন কর্মকাণ্ডে সে ভীত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটির একটি কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে সভাপতি হিসেবে আসিফ হাসান লিখনকে দেখা যায়। কমিটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পর একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ইবির বৈছাআ'র যুগ্ম সদস্য সচিব বাধন বিশ্বাস স্পর্শ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। সেখানে সে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটির কমিটিকে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন কমিটি হিসেবে আখ্যায়িত করে। এর সভাপতি আসিফ হাসান লিখনকে ছাত্রলীগের দোসর এবং জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারী হিসেবে তকমা দেয়। 

আরও পড়ুন<<>>বাকৃবিতে হাতি নিয়ে হল ফিস্টের শোভাযাত্রা

এ পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বান্ধবির টাকা মেরে, ডেকোরেটরের চেয়ার খেয়ে মনে হয় বাধন ভুলে গেছে সে নিজেও ছাত্রলীগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলো-বলে মন্তব্য করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সজিব। মন্তব্যের কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত বাধন সজীবকে মুঠোফোনে কল দেয়। ফোন করলে কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত বাধন অকথ্য ভাষায় সজীবকে গালিগালাজ করতে থাকে। সিনিয়র হয়ে এভাবে গালিগালাজ করার কারণ জানতে চাইলে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সজীবকে হুমকি দিতে থাকে এবং মন্তব্যের প্রমাণ চাইতে থাকে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রমাণ দিতে না পারলে সজীবের খবর আছে বলেও হুমকি দেয় বাধন। 

এরপর ক্রমাগত সজীবকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে বাধন। একপর্যায়ে সজীবের বিভাগের কোন বাপ আছে, কে তাকে বাঁচায় - তা দেখে নেয়ার হুমকিও দেয় ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিতর্কিত যুগ্ম সদস্য সচিব বাধন।

এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ইবি ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদও তার সঙ্গে পারে না বলেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করতে শোনা যায় কল রেকর্ডে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সজিব বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে ক্যাম্পাসে আসায় আগে কে কী করতো, কোন রাজনীতির সঙ্গে ছিল তা আমার জানার কথা না। বাধন ভাইয়ের পোস্টে কমেন্ট করার পর উনি আমাকে কল দিয়ে খুবই অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে। থ্রেট দেয় নানান ভাবে, প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমাকে ক্যাম্পাসে কেউ বাঁচাতে পারবে না, কোনো টিচার, কোনো স্যার কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবে না—এই ধরনের কথাবার্তা বলে। এমতাবস্থায় আমি নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গতকাল আমরা একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কিছুক্ষণ আগে সে এসে লিখিতভাবেও অভিযোগ জমা দিয়ে গেছে। এখন আমি প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব বাধন বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচিত। কিছুদিন আগে তার বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ তোলায় সে শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়