Apan Desh | আপন দেশ

মাছ-মুরগির পর সয়াবিন তেলের দামও বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৩০, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মাছ-মুরগির পর সয়াবিন তেলের দামও বাড়তি

ছবি : আপন দেশ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরেছে কর্মজীবী মানুষ। ফলে রাজধানী ঢাকা মহানগরী আবারও পুরোনো রুপে ফিরেছে। রাস্তায় সাড়ি সাড়ি গাড়ি। অফিসগামী মানুষের ভির, চিরচেনা যানজট যেন এ শহরের আসল পরিচয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) রাস্তা-ঘাটে অফিসগামীদের ভির না থাকলেও কাঁচাবাজারে ফিরেছে আগের ব্যস্ততা। তবে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে ক্রেতাদের।

রোজা ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাড়তি চাহিদার কারণে যে কটি পণ্যের দাম বেড়েছিল, তার মধ্যে ভোজ্যতেল, গরুর মাংস ও সোনালি মুরগি অন্যতম। এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায় ঈদের কয়েক দিন আগেই। ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল, ঈদ শেষে এসব পণ্যের দাম আবার আগের জায়গায় নেমে আসবে। কিন্তু এসব পণ্য আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ। এ ছাড়া ঈদের পর সবজির দাম কমে এলেও চলতি সপ্তাহে আবার কিছুটা বেড়েছে।

এছাড়া খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। সে সঙ্গে বেড়েছে খোলা পাম তেলের দামও। 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। তবে বাজারে আগের মতোই কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ডিম, আলু, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু পণ্য। চাল, ডাল, চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম স্থির রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি। তবে কিছু কিছু বাজারে ৮০০ টাকা ও কিছু কিছু বাজারে ৭৫০ টাকাতেও মিলছে। রোজার শুরুতে এক দফা বেড়ে গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকায় উঠেছিল। তবে ঈদের আগে তা কোথাও কোথাও ৮৫০-৯০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়। 

বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। ঈদের আগে আগে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি। অথচ রোজার শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৭০-৩২০ টাকা।

আরও পড়ুন<<>>এলপিজির দাম কেজিতে বাড়ল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা

বাজারে হঠাৎ করে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে দুই দিন আগেও খোলা সয়াবিনের লিটার ছিল ১৮০-১৮৫ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৯০-১৯২ টাকা দরে। একইভাবে দুই দিন আগের ১৭৫ টাকার পাম অয়েলের লিটার গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮৪-১৮৫ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে লিটারে দর বেড়েছে যথাক্রমে ৭-১০ ও ৯-১০ টাকা।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আগের মতোই রয়েছে, ১৯৫ টাকা লিটার। যদিও বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে ৩,৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে চিংড়ি কিনতে প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

এদিকে সবজির দাম ও বেড়েছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি কেজি পটোল ৮০ থেকে ৮৫, ঢ্যাঁড়স ৭০-৭৫, উচ্ছে ১০০-১২০ এবং বেগুন ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শিম বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।

সবজির বাজারে স্বস্তি নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, পোল্ট্রি ও কিছু মাছের দাম কম থাকলেও সবজির উচ্চমূল্যের কারণে বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যয় কমলেও পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচ এখনো চাপের মধ্যেই রয়েছে।

সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রাকের ভাড়া আগের তুলনায় এক-দেড় হাজার টাকা বেড়েছে। এ কারণে সবজির দর বাড়তি। তবে মৌসুম শেষ হওয়ায় শিমের দাম বাড়ছে বলে জানান তারা।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়