Apan Desh | আপন দেশ

গভর্নরকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল বিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:০৯, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:১৫, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গভর্নরকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল বিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ছবি: আপন দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে ‘স্বৈচারার’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ সভা করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাতে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জারি করা স্ট্যান্ড রিলিজ আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে গভর্নরের পদত্যাগের দাবি নিয়ে আন্দোলনে যাবেন তারা। এমন হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংক চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি একে এম মাসুম বিল্লাহ গভর্নরকে এ আল্টিমেটাম দেন।

এ সময় অন্য বক্তরা বলেন, আমাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মতান্ত্রিক আচরণ করা হয়েছে। তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ প্রতিকার পেতে আন্দোলন করছি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি আদায়ের আন্দোলন করব। কোনো ধরনের মব বায়োলেন্স করব না। 

পরে আন্দোলনকারীরা ব্যাংক চত্বরেই প্রতিবাদ র‌্যালি করে। এতে ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলির (স্ট্যান্ড রিলিজ) আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সরকার গঠনের আগে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পাচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ডাকার ঘটনায় এ তিনজনকে দুদিন আগে কারণ দর্শাতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন <<>> গভর্নরকে স্বৈরাচার বলায় ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ

বদলির মুখে পড়া তিন কর্মকর্তা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকার সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠন করা নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা। এরমধ্যে এ কে এম মাসুম বিল্লাহকে রংপুর কার্যালয়, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া ও নওশাদ মোস্তফাকে বরিশাল কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

গভর্নরের এহেন সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে কর্মসূচির ডাক দেয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনটি। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের আগের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্ষদ সভা শুরুর আগে বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। সেখানে সংগঠনটির সভাপতি একে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

 আরও পড়ুন<<>> সিটি ব্যাংক এমডি মুজিববাদী মাসরুর আরেফিন এখন ব্যাংকখাতের ভয়

সেখানে মাসুম বিল্লাহ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিসে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।

সরকার গঠনের আগের দিন পর্ষদ সভা ডাকা; পর্ষদ সভার আগে সংবাদ সম্মেলন এবং ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের অনুমোদন নিয়ে সেদিন বেশ উত্তাপ ছড়ায়। সে উত্তাপের মধ্যে অবশ্য শেষমেশ পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের আর অনুমোদন পায়নি।

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরই এক অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। সে সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে রোববার তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়। আর মঙ্গলবার এল তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়