ছবি : আপন দেশ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দিনে রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার লোডশেডিং হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা। নিম্ন আয়ের মানুষরা স্বস্তির খোঁজে শরবত বা আখের রসের দোকানে ভিড় করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ঘুমহীন রাত কাটাতে হচ্ছে। সামনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িক পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র গরমের মাঝে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
একাধিক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, সন্ধ্যায় পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সামনে পরীক্ষা থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। তীব্র গরমে অবস্থা আরোও জটিল হয়ে উঠেছে।
পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানায়, দিনে রাতে ১২-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে পরীক্ষার প্রস্তুতি। দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যার সমাধান করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও গাজীপুর-৫ আসনের এমপি একেএম ফজলুল হক মিলনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
এদিকে, চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় খেলা প্রেমীদের মাঝেও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অসহনীয় গরমের মাঝে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে ভর্তি রোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। প্রচণ্ড গরমে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীরা অস্বস্তিতে সময় কাটাচ্ছে।
কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন খোকন বলেন, লোডশেডিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যেও। একবার বিদ্যুৎ গেলে এক-দেড় ঘণ্টা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক বলেন, লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে জানতে পল্লী বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে ফোন কখনোই পাওয়া যায় না। আর ডিজিএমকে ফোন করলে বলে আমাকে ফোন দিয়েছেন কেন? এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম (উপ-মহাব্যবস্থাপক) আক্তার হোসেন বলেন, উপজেলায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুদের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় মোট চাহিদার ৫০-৭০ শতাংশ। ফলে লোডশেডিং করাতে হচ্ছে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































