Apan Desh | আপন দেশ

সীমান্তে কঠোর বিজিবি, পুশইনে ব্যর্থ বিএসএফ

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০০, ৭ জুন ২০২৬

সীমান্তে কঠোর বিজিবি, পুশইনে ব্যর্থ বিএসএফ

ছবি: আপন দেশ

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে তাদের অপচেষ্টা রুখে দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ভোর থেকে শনিবার (০৬ জুন) পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের সাতটি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি কঠোর অবস্থান, দিনরাত জোরদার টহল এবং সীমান্তবর্তী স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের ই অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। 

বিজিবির অনড় মনোভাব ও আন্তর্জাতিক আইনের যৌক্তিক দাবির মুখে কোথাও শূন্যরেখায় আটকে পড়া মানুষদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ, আবার কোথাও রাতের আঁধারে তারা পিছু হটেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর— দেশের মোট সাতটি জেলার সীমান্তে পুশইনের খবর পাওয়া গেছে। জেলাগুলো থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো—

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য বিএসএফ
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার এলাকা দিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ মোট ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বাঙ্গাবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করেন।

এ নিয়ে বিজিবি ও ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অবশেষে বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে শনিবার (০৬ জুন) তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। 

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বর্তমানে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের আর কোনো অবস্থান বা চলাচল দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে।

নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, ফিরে গেলেন ১৭ জননওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, ফিরে গেলেন ১৭ জন
নওগাঁ: ১৭ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া ও কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার এলাকা দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে দিনভর শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলমসহ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বিএসএফ সদস্যরা শূন্যরেখায় আটকে থাকা ওই ১৭ জনকে আবার ভারতে নিয়ে যায়। এ সময় তারা ভারতে না যাওয়ার জন্য বিএসএফ সদস্যদের কাছে অনেক কান্নাকাটি করেছিল, কিন্তু জোর করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যরেখায় থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পর তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে।

লালমনিরহাট: ৩৩ জনকে রাতের আঁধারে সরাল বিএসএফ
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফলালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ। শুক্রবার ভোররাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে একযোগে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দিনভর শূন্যরেখায় আটকে রাখার পর বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে রাতের আঁধারে সীমান্তের লাইট নিভিয়ে তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত জুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা, আজও রুখে দিলো বিজিবি

মেহেরপুর: গ্রামবাসী ও বিজিবির যৌথ প্রতিরোধ
শনিবার ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ১৪০/৫-এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ১টি শিশুসহ মোট ৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভোররাতে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। হাটপাড়া এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী একযোগে লাঠিসোঁটা নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেন। তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান জানান, সকাল থেকে বিজিবি হ্যান্ডমাইকে পুশইনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে আহবান জানাচ্ছে। বর্তমানে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পঞ্চগড়: ৩১ ঘণ্টা পার হলেও শূন্যরেখায় আটকে ১০ জন
শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া (বড়বাড়ি) সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি বাধা দিলে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করতে থাকে।

টানা ৩১ ঘণ্টা পার হলেও আটকে থাকা এ ১০ জনের কোনো সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি। 

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি বিএসএফকে স্পষ্ট বলেছি, রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে এভাবে ফেলে দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া (আইসিপি) অনুসরণ করে দিনের আলোতে পাঠাতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না।

ঠাকুরগাঁও: বিজিবির তৎপরতায় পিছু হটল বিএসএফ
শনিবার ভোররাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে সতর্ক অবস্থান নেন এবং পুশইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেন। 

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ সফল হতে দেওয়া হবে না। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে ওই ১১ জন ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

শেরপুর: বিএসএফের সুক্ষ্ম পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিল বিজিবি
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া সীমান্তের কাটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে ৫ থেকে ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের একটি সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করেছিল বিএসএফ। বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিকটবর্তী এলাকায় শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাংপাড়া এলাকায় ওই ব্যক্তিদের জড়ো করে রাখা হয়েছিল মানবপাচারকারী চক্রের সহায়তায়।

তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএসএফের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।

সীমান্তে নতুন কৌশল: কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ অভিযান
সীমান্তে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের এ ধারাবাহিক চেষ্টা রুখতে বিজিবি এখন সর্বোচ্চ সতর্ক ও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন দৌলতপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। রাতে নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, টর্চলাইটের পাশাপাশি নাইট ভিশন গগলস ও সার্চলাইটের মতো আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই বিওপিকে জানাতে বলা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাপথগুলো বন্ধ করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)। শুক্রবার থেকে জেলার ভোলাহাট উপজেলার চানশিকারী, চামুংগা, ভোলাহাট, গিলাবাড়ি, চরধরমপুর, সুরানপুর, পোলাডাঙ্গা, খড়গপুর এবং গোমস্তাপুরের বাংগাবাড়ি বিওপিতে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে দক্ষ ৩৩ জন আনসার সদস্যকে সরাসরি বিজিবির সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন আনসার কমান্ডাররা বিজিবি ক্যাম্পের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের নম্বর বিনিময় করেছেন, যাতে যেকোনো ডাক বা সন্দেহজনক গতিবিধি দেখামাত্রই তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধে যোগ দিতে পারেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক নিয়মবহির্ভূত কোনো ধরনের পুশইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তৎপর রয়েছেন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়