Apan Desh | আপন দেশ

পটুয়াখালী–৩ আসনে বহিষ্কার ঘিরে উত্তাপ

হাসান মামুনের পাশে গলাচিপা-দশমিনার স্থানীয় বিএনপি

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ১ জানুয়ারি ২০২৬

হাসান মামুনের পাশে গলাচিপা-দশমিনার স্থানীয় বিএনপি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বিরাজ করছে পটুয়াখালী-৩ আসনে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে দল থেকে বাহিষ্কার করে সে উত্তাপকে আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গি হিসাবে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ। ফলে বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরকে (ভিপি নুর)। একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপি নেতা হাসান মামুন। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। 

হাসান মামুনকে বাহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। বিএনপির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভাজন। ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ ঘটনাকে অনেকে কেন্দ্র বনাম তৃনমূল দ্বন্দ্ব বলে মনে করছেন। যা এতোদিন আড়ালে থাকলেও বাহিষ্কারের পর তা প্রকাশ্যে এসেছে। 

আরও পড়ুন<<>>পটুয়াখালীর দুই আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি বড় অংশ এখনও হাসান মামুনের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেছেন ও সাংগঠনিক সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান মামুন। এ বিষয়ে তৃণমূলে এক নেতা বলেন, হাসান মামুনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নির্বাচনী হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জোটের অনেক নেতা নুরকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। 

তবে এ সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে থেকে অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে পদবিন্যাসে দীর্ঘদিনের নেতাকর্মী ও ত্যাগী সদস্যদের অনুপস্থিতি থাকছেন। এর অন্যতম কারণ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো মূলত হাসান মামুনের অনুসারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পটুয়াখালী–৩ আসনের এ দ্বন্দ্ব শুধু একজন নেতা বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এটি কেন্দ্র বনাম মাঠের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে এ এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় সমর্থন ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

হাসান মামুনের সমর্থকরা বলছেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমর্থনের ফলে তার ভোটব্যাংক এখনও বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করেছে। স্থানীয় নেতারা মূলত তাকে সমর্থন করছেন। তাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সরাসরি ভোটের সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।

ফলে, পটুয়াখালী–৩ আসনের ভোট এখন অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ। যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বনাম তৃনমূলের সমর্থন এবং হাসান মামুনের জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নাকি স্থানীয় সমর্থন—কোনটি ভোটের ফলাফলে প্রাধান্য পাবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়